টাকা আনা পাই
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৪, ২২:৫৪
১৯৭২ সালের ৪ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম ১, ৫, ১০ ও ১০০ টাকার
নোট চালু হয়; উয়ারি বটেশ্বরে পাওয়া মুদ্রা দেখে প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা এসব মুদ্রা বঙ্গ জনপদেরই, খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ ও ৫ম শতকের; মিরপুরে টাকা জাদুঘরে রয়েছে প্রাচীন ও আধুনিক মুদ্রার বিশাল সংগ্রহ
প্রবাদ আছে- অর্থই অনর্থের মূল। আমাদের সমাজবিদরা দেখেছেন, এই যে দলাদলি মারামারি ক্ষমতা দখল— সবকিছু যেন টাকারই জন্য। সমাজে যার যত টাকা তার তত প্রতিপত্তি। পকেটে টাকা না থাকলে দাম নেই। বিদ্যার মূল্য দিতে চায় না কেউ। এসব দেখে তাদের মনে হয়েছে টাকাই অনর্থের মূল। সে জন্য সমাজবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন টাকার পেছনে ছোটা কোন ভালো কাজ না। কিন্তু টাকা ছাড়া চলেও না। বাচ্চার স্কুলের ফিস, ঘরের ভাড়া, একটু এদিক সেদিক বেড়ানো, আরো কিছু টাকা জমলে উড়ে গিয়ে বিদেশ ঘোরা। এসব কি আর করা যায় টাকা না হলে! তাহলে?
তাই টাকা ছাড়া জীবন চলে না। টাকা খুবই দরকারি জিনিস। এই টাকার তো আর নিজের চলার ক্ষমতা নেই। টাকা দিয়ে যেমন বই কেনা যায়, তেমনি অস্ত্রও কেনা যায়। তাই টাকা ব্যবহারটাই আসল।
দুনিয়া জুড়ে টাকা নিয়ে তেলেসমাতি কম হয় না! কারো জীবনে টাকা না চাইতেই আসে। যেন ‘আলাদিনের যাদুর চেরাগ’ রয়েছে তার কাছে। শুধু ঘষা দেয়ার অপেক্ষা। আবার অনেকে টাকা উপার্জনের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে ব্যর্থ। তারা ভাবে ইশ! থাকতো যদি একটা টাকার গাছ, তবে কোন দুঃখই থাকতো না। সেই দুঃখ নিয়ে গান হয় ‘টাকা তুমি সময় মত আইলা না’। টাকা নিয়ে মানুষের হা-পিত্যেশেরও শেষ নেই।
মুদ্রার প্রচলন
খ্রিস্টপূর্ব ১২ হাজার বছর আগে সেই প্রস্তর যুগে মুদ্রার প্রচলন শুরু। এর আগে ছিল বিনিময় ব্যবস্থা বা গিফট ইকোনমি। বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ এক গোত্র অন্য গোত্রের সঙ্গে খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিনিময় করতো। এরপর আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া লাভার স্ফটিক বিশেষ ছাঁচে কেটে তা মুদ্রা হিসাবে ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। খ্রিস্টপূর্ব নবম শতকে এসে সার্দিনিয়াতে (বর্তমানে ইতালির একটি প্রদেশ) সুশৃংখল ব্যবসা কাঠামো গড়ে ওঠে এই মুদ্রাকে কেন্দ্র করে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে এসে পাথরের সেই মুদ্রার বদলে জায়গা করে নেয় তামা আর সিলভারের মুদ্রা।
ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার বছর আগে চীনে প্রথম ব্রোঞ্জের মুদ্রার প্রচলন হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ থেকে ৫০০ বছর আগে ভারত, চীন ও ইজিয়ান সাগরের আশপাশের দেশগুলোতে রীতিমত মুদ্রা উত্পাদন করা হতো। ইজিয়ান মুদ্রাগুলো ধাতব ছাপযুক্ত ছিল। তুরস্কে লিডিয়াতে প্রাচীন এই মুদ্রার নিদর্শন মেলে।
এ প্রসঙ্গে রাজধানীতে স্থাপিত টাকা জাদুঘরের কিউরেটর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রাচীনকালে বিশ্বের অন্যান্য সভ্যতায় যখন খোদিত মুদ্রার প্রচলনের প্রমাণ মেলে, প্রায় কাছাকাছি সময়ে বাংলাদেশে অর্থাত্ এই বঙ্গ জনপদে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ ও পঞ্চম শতকের দিকে মুদ্রা পাওয়া যায়। উয়ারি বটেশ্বরে পাওয়া মুদ্রা দেখেও প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করছেন মুদ্রাগুলো এই বঙ্গেই তৈরি।
প্রথম মুদ্রা ব্যবহারের আইন
ব্যাবিলন সভ্যতায় প্রথম মুদ্রা ব্যবহারের আইনি কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব এক হাজার ৭৬০ বছর আগে ব্যাবিলনের ষষ্ঠ রাজা হামমুরাবি এই আইনি কাঠামো তৈরি করেন। সেই সময় টাকার ওপর সুদ নির্ধারণ করা হয়। টাকার ভুল ব্যবহারে নাগরিকদের দণ্ড দেয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়। এটাই ছিল সভ্য সমাজে প্রচলিত টাকা ব্যবহারের প্রথম আনুষ্ঠানিক আইন।
কাগজের নোট
চীনের সং রাজবংশ কাগজের নোট চালু করে। এটা ছিল একটা স্লিপের মত। যা স্বল্প সময়ের জন্য ব্যবহূত হতো। ব্যবসায়ীরা তামার মুদ্রার বোঝার চাইতে স্বল্পসময়ের জন্য অনুমোদন দেয়া এই নোট ব্যবহার করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো। সপ্তম শতকে ত্যাং রাজবংশ ব্যাংকনোট প্রচলন করে। মিং রাজবংশের শাসনামলের মালবেরি গাছের বাকল ব্যবহার করে নোট ছাপানো হতো বলে জানা যায়। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সুইডেনে ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ব্যাংক নোট চালু হয়। ১৬৬১ সালের দিক থেকে যার প্রচলন বাড়তে থাকে। তবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ১৬৯৪ সালে প্রথম স্থায়ী নোট চালু করে।
ভারতীয় উপমহাদেশে তত্কালীন অবিভক্ত বাংলায় (বর্তমান বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ) প্রথম ব্যাংক নোট চালু হয়। বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক ১৭৭০-১৭৮০ সালের মধ্যে এই ব্যাংক নোট চালু করে। ১৮৬১ সাল থেকে সরকারি উদ্যোগে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম ব্যাংক নোট প্রচলিত হয়।
বাংলাদেশের টাকা
১৯৭২ সালের ৪ মার্চ এক টাকার নোট প্রচলনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নিজস্ব কাগজি মুদ্রা নোট চালু হয়। বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল সেই নোটে। এই নোট ছাপা হয় ইন্ডিয়ান সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেসে। পরে সুইজ্যারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, ভারত, কোরিয়া, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশের নোট ছাপা হয়। ৫, ১০ ও ১০০ টাকার নোটও চালু হয় ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ। এসব নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংবলিত ছিল।
২ টাকার নোট চালু হয় ২৯ ডিসেম্বর ১৯৮৮ সালে। ১৯৭৬ সালের ১ মার্চ ৫০ টাকার নোট চালু করা হয়। আর একই বছর ১৫ ডিসেম্বর বাজারে ছাড়া হয় ৫০০ টাকার নোট। ২০ টাকার নোট প্রথম বাজারে আসে ১৯৭৯ সালের ২০ আগস্ট। আর ২০০৯ সালের ১৭ জুলাই বাজারে আসে ১ হাজার টাকার নোট।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১ পয়সা, ৫, ১০, ২৫ ও ৫০ পয়সার মুদ্রা বাজারে ছাড়া হয়। পরে পর্যায়ক্রমে ১ টাকা, ২ টাকা ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রাও ছাড়া হয়। বর্তমানে ৫, ১০, ২৫ ও ৫০ পয়সার মুদ্রার দেখা মেলে না বললেই চলে।
টাকশাল ও টাকার ইতিহাস
টাকা শব্দটি সংস্কৃত টঙ্ক শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ রৌপ্যমুদ্রা। এক টাকার শতাংশ হচ্ছে পয়সা। খ্রিস্টীয় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিশালাংশে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাল রাজাদের রাজত্ব ছিল। তবে সে সময়ের মুদ্রা পাওয়া না যাওয়ায় তাদের টাকশাল সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না। দ্বাদশ শতক থেকে ত্রয়োদশ শতক পর্যন্ত ব্রাহ্মণ ধর্মাবলম্বী সেনরাজারা বাংলাদেশের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে রাজত্ব করে। সেনযুগে পালযুগের মতো মুদ্রার পরিবর্তে কড়ির প্রচলন ছিল। ইখতিয়ার উদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির সময় থেকে দেশে বিপুলসংখ্যক মুদ্রা প্রচলন হয়। সুলতানি আমলে বাংলাদেশ সম্পদশালী দেশ হিসেবে পরিচিতি পায়। সে সময়ের বাংলাদেশের বাগেরহাট এলাকার খলিফাতাবাদ টাকশাল, রাজশাহীর বারবাকাবাদ টাকশাল, সোনারগাঁওয়ের নিকটবর্তী মুয়াজ্জমাবাদ টাকশাল, ফখরুদ্দিন মুবারক শাহর রাজধানী সোনারগাঁওয়ের টাকশাল, চট্টগ্রাম টাকশালসহ প্রায় ৮০টি টাকশালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। মুঘল আমলেও বাংলাদেশে টাকশালের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। মুঘল যুগের জাহাঙ্গীরনগর টাকশালে তৈরি মুদ্রার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়। যার পাশাপাশি কাগুজে নোটেরও প্রচলন হয়। তবে তা আধুনিক মানের ছিল না।
স্বাধীন বাংলাদেশের একমাত্র ও আধুনিক টাকশালটি ১৯৮৯ সালে গাজীপুরে স্থাপিত হয়।
মিরপুরে টাকা জাদুঘর
মিরপুর ২ নম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক টাকা জাদুঘর। প্রাচীন বাংলা থেকে এ সময়ের মুদ্রা ও ব্যাংক নোট স্থান পেয়েছে জাদুঘরে। এছাড়াও নানা দেশের মুদ্রা, নোট ও স্মারক মুদ্রাও রয়েছে।
২০১২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান টাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। গত বছরের ৫ অক্টোবর এই জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
এ জাদুঘরের কিউরেটর ড. মো. রেজাউল করিম জানান, টাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হলো প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমানকাল পর্যন্ত যে সকল মুদ্রা ও কাগজী নোট বাংলাদেশে প্রচলিত ছিল এবং আছে; সেই সকল মুদ্রা ও নোট সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন, গবেষণা ও প্রকাশনা এবং এর মাধ্যমে মুদ্রার ইতিহাসকে তুলে ধরা।
এ জাদুঘরে রয়েছে দুটি প্রদর্শনী গ্যালারী। প্রথম গ্যালারীতে পর্যায়ক্রমে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের তথা ভারতীয় উপমহাদেশের সর্ব প্রাচীন মুদ্রা ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা। যার সময়কাল মৌর্য যুগের (খ্রিষ্টপূর্ব ৬ষ্ট শতক থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতক পর্যন্ত এই মুদ্রার ব্যাপক প্রচলন ছিল বাংলায়)। মুদ্রাগুলোর বিশেষত্ব হলো এগুলোর আকর্ষণীয় চিত্রায়ন। চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে পাহাড়, পর্বত, সূর্য, গাছ, মাছ, পাখি, ময়ূূর, হাতি, সাপ প্রভৃতি। ২ নম্বর শোকেসে রয়েছে প্রাচীন বাংলায় প্রচলিত কুষাণ রাজাদের মুদ্রা। কুষাণ রাজাদের মধ্যে রয়েছে বিমকদফিস, কনিষ্ক, বশিঙ্ক, হুবিস্ক ও বাসুদেব-এর মুদ্রা। এ মুদ্রাগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো কুষাণ রাজা হুবিস্ক ও বাসুদেব-এর ছবি ও দেবদেবীর মূর্তি সম্বলিত মুদ্রা। গ্রিক দেবদেবী সম্বলিত ইন্দো-পার্থিয়ান ও ইন্দোগ্রিক মুদ্রা। শোকেস তিন এ রয়েছে হরিকেল রাজাদের মুদ্রা। এই মুদ্রার বৈশিষ্ট্য হলো একদিকে শিবের বাহন ত্রিশুল অপরদিকে রয়েছে লিপিমালা এবং বাহন নন্দী বা ষাড়। অলংকারসামগ্রী যাতে রয়েছে মুদ্রার ব্যবহার। এছাড়া এই শোকেসে প্রদর্শিত হচ্ছে কড়ি; যা মালদ্বীপ থেকে আমদানী করা হতো।
চার নম্বর শোকেসে রয়েছে মধ্যযুগের দিল্লীর সুলতানদের মধ্যে সুলতান আলাউদ্দীন মাসুদ শাহ, মুইযউদ্দীন মুবারক শাহ, গিয়াসউদ্দীন তুঘলক শাহ, নাসির উদ্দীন মুহাম্মদ শাহ, নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ, নুসরাত শাহ, মাহমুদ শাহ (২য়) এর মুদ্রা। ৫ নম্বর শোকেসে রয়েছে সুলতানী বাংলার শাসকদের মধ্যে শামসউদ্দীন ফিরুয শাহ, গিয়াসউদ্দীন বাহাদুরশাহ, ফখরউদ্দীন মুবারক শাহ, আলাউদ্দীন আলী শাহ, শামস উদ্দীন ইলিয়াস শাহ, সিকান্দার শাহ, শিহাবউদ্দীন বায়াযিদ শাহ, জালাল উদ্দীন মুহাম্মদ শাহ, নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ, রুকুন উদ্দীন বারবক শাহ, শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ, সিকান্দার শাহ, সাইফউদ্দীন ফিরুয শাহ, আলাউদ্দীন হুসাইন শাহ, নাসির উদ্দীন নুসরত শাহ, গিয়াস উদ্দীন মাহমুদ শাহ, শেরশাহ শুরি (দিল্লী ও বাংলা), ইসলাম শাহ শুরি (দিল্লী ও বাংলা) এবং দাউদ শাহ কররানীর মুদ্রা। ৬ নম্বর শোকেসে রয়েছে মোগল সম্রাটদের মধ্যে সুলতান মহম্মদ আদিল শুরি, সম্রাট জালালউদ্দীন মুহম্মদ আকবর, সুলতান শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ, সম্রাট নূরুদ্দিন মুহম্মদ জাহাঙ্গীর, সম্রাট শাহজাহান, সম্রাট জাহাঙ্গীর, সম্রাট আওরঙ্গজেব, সম্রাট মুহাম্মদ শাহ, সম্রাট মুহাম্মদ/আহাম্মদ শাহ বাহাদুর, সম্রাট শাহ আলম (২য়) রৌপ্য মুদ্রা। এরই পাশে টেবিল শোকেসে প্রদর্শিত হচ্ছে মোগল সম্রাট শাহজাহান ও সম্রাট শাহ আলম ২য় এর স্বর্ণ মুদ্রা। সুলতানী বাংলা, দিল্লী ও মোগল সম্রাটদের মুদ্রার বৈশিষ্ট্য হলো আরবি লিপিমালাযুক্ত।
এছাড়া রয়েছে সুলতানী আমলের সমসাময়িক আসাম রাজা রুদ্রসিংহ, শিবসিংহ, নরসিংহর মুদ্রা। এরপর রয়েছে ডিওরামা অর্থাত্ প্রাকৃতিক পরিবেশকে কৃত্রিমভাবে তুলে ধরা। এতে বাংলার পণ্য বিনিময় প্রথা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও এ জাদুঘরে রয়েছে সুলতানী আমলের সমসাময়িক কুচবিহারের মুদ্রা, ব্রিটিশ ভারতীয় মুদ্রা, ব্রিটিশ আমলের স্বর্ণমুদ্রা, পাকিস্তানী মুদ্রা ও নোট, বিলুপ্ত দেশের মধ্যে বার্মা, চেকোশ্লাভাকিয়া, যুগোশ্লাভাকিয়া, সিলোন, জায়ার, জাপান-ফিলিপাইন, জাপান-বার্মা প্রভৃতি দেশের কাগজী নোট, বিভিন্ন দেশের দুষ্প্রাপ্য নোটের মধ্যে রয়েছে সবচে বড় কাগজী নোট রাশিয়ার, সবচে ছোট কাগজী নোট জার্মানীর। মরক্কো, বার্মুদা, বুলগেরিয়া, কাজাকিস্তান, রাশিয়া, সোলেমন দ্বীপপুঞ্জ, ওমান, কাতার, পাপুয়ানিউগিনি প্রভৃতি দেশের হাইব্রিড ব্যাংকনোট। এরপরই রয়েছে বেলজিয়াম কঙ্গো, পর্তুগীজ কেপভার্দে, ফ্রেঞ্চ মাদাগাস্কার, ফ্রেঞ্চ তিউনিশিয়া, কাতাঙ্গা, জানজিবার, রোডেশিয়া প্রভৃতি বিলুপ্ত দেশের মুদ্রা। এই গ্যালারীর মাঝখানের বেদী শোকেসগুলোতে রয়েছে আধুনিক বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে প্রচলিত মুদ্রা ও নোট, স্মারকমুদ্রা।