জমে উঠেছে বাঘার আম বাজার
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৪, ২২:৫৪
এক ডালায় গোপাল ভোগ তো আরেক ডালায় ক্ষীরসাপাত। পাশেই আবার আরেক ঝুড়িতে রাখা আছে ল্যাংড়া আম। এমনই বাহারি আমের রঙ ও মৌ-মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে বাঘার আম বাজার। তবে গতবারের চেয়ে এবার আম কম থাকায় আকাশ ছোঁয়া দাম হাঁকছেন ব্যবসায়ীরা। তারপরেও বিক্রি হচ্ছে আম।
স্থানীয় সূত্র মতে, রাজশাহী জেলার কয়েকটি থানার মধ্যে আমপ্রধান এলাকা হিসাবে বাঘা ব্যাপক পরিচিত। প্রতি বছরই আমের এই মৌসুমে এখানে বেশ কয়েকটি আমের বাজার গড়ে ওঠে। এই বাজারে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক আম ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় কাটান। এখানে বড়-বড় ব্যবসায়ীরা চুক্তি মূল্যে বাগান কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে আম চালান করলেও বসে থাকে না ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে আম ক্রয় করেন। এরপর স্বল্প পরিসরে সেগুলো নিকটতম বাজারে বিক্রি করেন। এ সকল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে আমের বাজারও ভালো। এ কারণে তাদের লাভও ভালো হচ্ছে।
উপজেলার আম ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলার বাঘা সদর, আড়ানী ও মনিগ্রাম বাজারে প্রতিদিন ধুমসে চলছে আম বেচা-কেনা। এর বাইরেও বিভিন্ন মোড়ে-মোড়ে গড়ে উঠেছে আমের আড়ত। এসব বাজার ও আমের আড়ত থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাধ্যমে হাত বদল হচ্ছে বিভিন্ন জাতের আম। যা ট্রাকে করে চালান দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রতিদিন ভোর হতে না হতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আম বাগান থেকে-মিনি ট্রাক, সিএনজি, নসিমন, করিমন ও রিকশা-ভ্যান বোঝাই করে উপজেলা সদরের বাস টার্মিনাল বাজার এবং আড়ানী ও মনিগ্রাম বাজারে আম আনা হচ্ছে।
উপজেলার বলিহার গ্রামের বাগান মালিক জলিল সরকার জানান, তার প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম গাছ রয়েছে। তাতে এ বছর আমের উত্পাদন ভালো না হলেও গত বছরের তুলনায় বেশি দামে আম বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাঘার আমের আলাদা খ্যাতি রয়েছে। এ কারণে এখানকার আম অন্যান্য জায়গার আমের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাঘার বাস টার্মিনালের আম ব্যবসায়ী নুর ইসলাম জানান, বর্তমানে এই বাজারে ক্ষীরসাপাত, গোপাল ভোগ ও ল্যাংড়া আম ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অপর দিকে তোতাপরি, আম্রপলী, রানী পছন্দ, সেনরি ও লকনা-সহ অন্যান্য গুটি জাতীয় আম ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে কেনা-বেচা হচ্ছে।