বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন নারী সাংবাদিক

পরিবারের অসহযোগিতা, কর্ম পরিবেশের প্রতিকূলতা, আর্থিক অনিশ্চয়তা, চাকরির নিরাপত্তাহীনতা সর্বোপরি ঊর্ধ্বতন কর্তাব্যক্তিদের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিভিন্ন মিডিয়ায় নারী সাংবাদিকরা নিজের জায়গা করে নিয়েছেন বলে মতপ্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজ্ঞজন। তারা বলেন, এমন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে এসেছে নারী সাংবাদিকরা। গুটি কয়েক হলেও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ আসনে আছেন নারী। আজ সমাজ নারী সাংবাদিকদের বিষয় ভাবতে বাধ্য হচ্ছে, এই অগ্রযাত্রা তাদের কর্মদক্ষতার জন্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। গতকাল আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল ১৯ আয়োজিত জেন্ডার বৈষম্য এবং মিডিয়ায় সেন্সরশিপ বিষয়ক নতুন প্রকল্প ‘রাইটিং রং এগেইনস্ট উইমেন জার্নালিস্ট’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ঢাকার ওয়াই ডব্লিউ সি এ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আর্টিকেল ১৯-এর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক তাহমিনা রহমান। অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পিআইবির মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভিন সুলতানা ঝুমা, লেখিকা ও শিল্পী নিশাত জাহান রানা, ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান মঞ্জু, উইমেনচ্যাপ্টার ডট কমের সম্পাদক সুপ্রীতি ধর প্রমুখ। শাহ আলমগীর বলেন, নারী হিসাবে কোন অজুহাত নয়, বরং নারীরা পারে বলেই নতুন নতুন পদে তাদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। নারীরা নারীবান্ধব পরিবেশ না পেয়েও অনেক ভালো করছেন। এই অবস্থায় তিনি ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের মতো শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকদের তত্ত্বাবধানে নারীদের পরিচালনায় দৈনিক সংবাদ পত্র ও টিভি চ্যানেল করার আহবান জানান। তাসমিমা হোসেন বলেন, আমরা যখন শুরু করি তখন সাংবাদিকতায় পড়াশুনার তেমন সুযোগ ছিল না। আমরা ঠেকে ঠেকে শিখেছি। আমার একটি সংবাদ প্রত্রের ঐতিহ্যমণ্ডিত পরিবারে বিয়ে হয়। আমি সেই সুযোগে ডেইলি স্টারের নিশাত সাদমানিকে দেখে অনুপ্রাণিত হই। কাজ করতে এসে দেখেছি নারীদের সহযোগিতা অনেকে করতে চান না। অনন্যার ২৬ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি অনেক ভাল সাংবাদিক ঝরে যায়। একটি দৈনিকের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে বলতে পারি নারীরা অনেক ভালো কাজ করছেন। প্রতিকূলতা থাকবে, তা দূর করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবর্তন আসা প্রয়োজন। তাহমিনা রহমান বলেন, আমরা আইনের আওতায় নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছি। নারী সাংবাদিকদের বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। অন্য বক্তারা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। তারা চাকরি না ছেড়ে সমস্যা দূর করার ক্ষেত্রে একটি কমিউনিটি কার্যক্রম করার কথা বলেন। উল্লেখ্য, প্রকল্পটি উদ্বোধন উপলক্ষে সারাদেশের ৬০ জনেরও বেশি সাংবাদিক, অনলাইন একটিভিস্ট ও কমিউনিটি রেডিও ফ্যাসিলিটেটরের অংশগ্রহণে সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়ে দু’দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়।