টেকনাফ পৌর এলাকায় তীব্র পানি সংকট
আব্দুর রহমান, টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৪, ২২:০০
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভায় পানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে চাহিদা অনুযায়ী পানি না পাওয়ায় প্রায় ২৫ হাজার পৌরবাসী ভোগান্তি পোহাচ্ছে। ২০০০ সালে পৌরসভা গঠনের পর থেকে এখনও পানির সমস্যা সমাধান হয়নি। তবে বর্তমান টেকনাফ পৌরসভার মেয়র হাজি মোঃ ইসলামের উদ্যোগে কিছুদিন একটি গাড়ি দিয়ে টেকনাফ পৌর এলাকায় পানি সরবরাহ করে থাকলেও তা এখন বন্ধ রয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস ধরে টেকনাফের তাপমাত্রা ৩২-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি। এতে তীব্র গরম পড়ায় পানির চাহিদাও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলম জানান, একদিকে তীব্র গরম, তার ওপর দুই মাসের বেশি সময় ধরে নলকূপে পানি ওঠে না। এলাকার লোকজন বাধ্য হয়ে দূর থেকে পানি ক্রয় করছে। পৌরসভা বেশ কয়েকদিন কিছু খাবার পানি সরবরাহ করলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ রয়েছে। পৌরসভা গঠনের ১৩ বছর পার হয়ে গেলেও পানির সমস্যা সমাধান হয়নি। গৃহস্থালি কাজের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে পানি এনে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ পৌর এলাকায় প্রতিদিন কি পরিমাণ পানির প্রয়োজন তার কোন তথ্য জানা যায়নি। কারণ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এদিকে এলাকার অধিকাংশ বাড়ির মালিকদের নলকূপ ও পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় সহজে পানি তুলতে পারছে না।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কায়ুকখালীয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, উত্তর জালিয়াপাড়া, দক্ষিণ জালিয়াপাড়া, বাজারপাড়া, কুলালপাড়া, খানকার ডেইল, কলেজপাড়া, অলিয়াবাদ, সাইতংখিল, ইসলামাবাদ, পুরানপল্লানপাড়া, উপজেলা পরিষদ এলাকাসহ অধিকাংশ এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
টেকনাফের বাসিন্দা জিয়াবুল হক জানান, পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে টেকনাফে এখন পর্যন্ত পানির স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমরা এই পানি সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।
পৌর প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির অর্থায়নে ঢাকা বন্ধন-আরডিওপি কনসোর্টিয়াম বাস্তবায়ন করছে। কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড গরম পড়ায় এবং পৌরসভার কয়েকটি এলাকায় গভীর নলকূপ ও পুকুর শুকিয়ে গেছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২৮-৩০ ফুট নিচে নেমে গেছে। তবে চলতি জুন মাসে বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ আতাউর রহমান বলেন, পুকুরের পানি নষ্ট হয়ে পড়ায় ঐ পানি পানে বিরত থাকতে হবে। না হলে ডায়রিয়া, জন্ডিসসহ নানা পেটের পীড়ায় লোকজন আক্রান্ত হবে।
পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আব্দুল্লাহ মনির বলেন, পৌরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। পানি সংকট নিরসনে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আশা করছি, আগামী বছর পৌরসভায় পানি সমস্যা থাকবে না।