মহিলা রেফারীর অনুরোধ মার্তার
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৪, ২২:১০
মহিলা ফুটবল জগতের অন্যতম সেরা তারকা মার্তা ফিফার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, পুরুষদের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো পরিচালনার জন্য যোগ্য মহিলা রেফারীদের যেন ভবিষ্যতে সুযোগ দেয়া হয়।
পাঁচবারের বিশ্বসেরা এই মহিলা ফুটবলার আরো বলেছেন, প্রত্যেক মহিলারই হেলেনা কস্তার উদাহরণ নিজের ক্যারিয়ারে অনুসরণ করা উচিত। সম্প্রতি ফ্রান্সের একটি পেশাদার পুরুষ দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এই পর্তুগীজ নারী।
২৮ বছর বয়সী মার্তা ভিয়েরা ডা সিলভা যিনি বিশ্বব্যাপী তার নান্দনিক ফুটবল ছন্দের কারণে পরিচিতি লাভ করেছেন। ব্রাজিলিয়ান এই তারকা শুধুমাত্র মার্তা হিসেবেই অধিক পরিচিত। তার মতে শুধুমাত্র বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফাই বলতে পারবে কেন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো পরিচালনার জন্য কোন মহিলাকে অনুমতি দেয়া হয় না। রিও ডি জেনিরোতে ‘ফুটবলে সমতা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘বিশ্বের অনেক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মহিলা রেফারী ম্যাচ পরিচালনা করে থাকে এবং কখনই তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ শোনা যায়নি। তারা সবসময়ই বেশ ভাল পারফর্ম করেছে। আমি আশা করবো পরবর্তী বিশ্বকাপে ফিফা বিষয়টি নিয়ে আরো চিন্তা করবে এবং মহিলাদের সুযোগ দিবে।’ ইংলিশ এবং জার্মান শীর্ষ সারির ম্যাচে মহিলা রেফারীরা সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরুষদের ম্যাচে এটা প্রায় দেখাই যায় না। এর মধ্যে অবশ্য ব্যতিক্রম কস্তা। অনেকটা আকস্মিকভাবেই তিনি পুরুষ ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন। গত মাসে ফ্রেঞ্চ লীগের দ্বিতীয় সারির দল ক্লারমন্টের কোচের দায়িত্ব পেয়ে তিনি বিশ্ব ফুটবলে চমক সৃষ্টি করেন। মার্তার মতে, একজন মহিলার যদি যোগ্যতা থাকে তবে এটা কোন ব্যাপার নয় যে, দলটি পুরুষ না মহিলাদের। কস্তা অবশ্যই তার রেকর্ড দিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন, একজন মহিলা হিসেবে নয়। আর এর মাধ্যমে মহিলা কোচ হিসেবে সে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মার্তার মতে এতে করে অন্য মহিলারাও অনুপ্রাণীত হবে। তিনি নিজেও ভবিষ্যতে ব্রাজিল দলের সাথে সম্পৃক্ত হবেন কিনা এমন বিষয়ে অনেকটা উত্সাহী দেখা গেছে এই তারকাকে। বিষয়টি উড়িয়ে না দিয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইতোমধ্যেই খেলা ছেড়ে দেবার পরে ফুটবলের সাথে তার সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহের কথা প্রকাশ করেছেন।
মার্তাকে পুরো ব্রাজিলে ডাকা হয় ‘পেলে ইন আ স্কার্ট’ নামে। এই নামটি নিয়ে অবশ্য কোন আপত্তি নেই মার্তার। তার মতে একজন কিংবদন্তী খেলোয়াড়ের নামের সাথে তার নামটি জড়ানোয় তিনি খুশী। নিঃসন্দেহে বিষয়টি বেশ সৌভাগ্যের। -বাসস