নাদালের জয়রথ থামবে জোকোভিচে?
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৪, ২২:১১
রাফায়েল নাদাল এবং নোভাক জোকোভিচ ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আজ ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন। রোলা গ্যারোর রেকর্ড আট বারের শিরোপাধারী এবং গত চারটি আসরের চ্যাম্পিয়ন নাদাল আজ জিতলে তিনি হবেন ক্লে কোর্টের একমাত্র গ্র্যান্ড স্ল্যামে টানা পাঁচটি শিরোপা জেতা প্রথম খেলোয়াড়। আর জোকোভিচ জিতলে ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম খেলোয়াড় হিসাবে পূর্ণ করবেন ক্যারিয়ার স্ল্যাম।
গত দশ বছরে প্যারিসের এই লাল কোর্টে ৬৬ জয়ের বিপরীতে একটি মাত্র হার! সেই হারটি এসেছিল ২০০৯ সালে, রবিন সোদারলিংয়ের বিরুদ্ধে। পরে জানা যায়, ঐ হারের পেছনে প্রতিপক্ষের চাইতে নাদালের চোটেরই ভূমিকা ছিল বেশি। এরপর ২০১০ সালে লাল দুর্গে আবার বিজয়ের নিশান উড়ানোর পর গত বছরের ফাইনালে ডেভিড ফেরারকে হারিয়ে এখানে অষ্টম শিরোপা নিশ্চিত করেন তিনি। টেনিসের ইতিহাসে একই গ্র্যান্ড স্ল্যামে আটটি শিরোপা জেতার প্রথম নজির ছিল এটা।
২০০৯ সালের আগে পড়ে চারটি করে শিরোপা জেতা রোলা গ্যারোর সম্রাটের সামনে তাই এই টুর্নামেন্টে টানা পঞ্চম শিরোপা জেতার সুযোগ। টানা চারবার জেতার কৃতিত্ব নাদালের পাশাপাশি ছিল বিয়োন বোর্গেরও।
এদিকে, রোলা গ্যারোয় গত কয়েক বছর ধরেই প্রথম শিরোপার লক্ষ্যে হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকা জোকোভিচ আজ জিতলে পরিণত হবেন সবগুলো গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা অষ্টম খেলোয়াড়ে। বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে কেবল নাদাল ও রজার ফেদেরারেরই আছে সেই কৃতিত্ব।
তবে দু’জনের সামপ্রতিক লড়াইয়ের বিবেচনায় এগিয়ে থাকবেন জোকোভিচই। কারণ, দু’জনের সর্বশেষ চারটি লড়াইয়েই জিতেছেন এই সার্বিয়ান। এর মধ্যে আছে গত মাসে রোম মাস্টার্সের ফাইনালও। তবে চলতি টুর্নামেন্টে নাদালের ফর্ম আশা জাগাচ্ছে তার ভক্তদের। এই স্প্যানিয়ার্ড কোয়ার্টার ফাইনালে ৬-৩, ৬-২, ৬-১ গেমে বিধ্বস্ত করেছেন অ্যান্ডি মারেকে।
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকাটির বিশ্বাস, প্রথম শিরোপা জেতার আকাঙ্ক্ষাই আজ বাড়তি শক্তি জোগাবে জোকোভিচকে, ‘নোভাকের জন্য এই অভিজ্ঞতাটা একদমই নতুন নয়। আমি নিশ্চিত রোলা গ্যারোতে প্রথম শিরোপা জিততে যে কোন কিছু করতে প্রস্তুত সে।’
তবে এই শক্তির জায়গাটাই হিতে বিপরীতও হয়ে আসতে পারে জোকোভিচের জন্য। জেতার এই বাড়তি চেষ্টা চাপ হয়ে জোকোভিচের কাঁধে এঁটে বসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একই সাথে প্রথম শিরোপার তাড়না তার জন্য বাড়তি চাপ হয়েও দাঁড়াতে পারে।’
এদিকে, ক্যারিয়ারের ত্রয়োদশ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলতে নামা জোকোভিচও মানছেন, রোলা গ্যারো আক্ষেপ ঘোচাতে কঠিন এক চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে তার জন্য। ফিলিপ কার্টিয়ার কোর্টে দশ বছরে একটি মাত্র ম্যাচ হারা প্রতিপক্ষ সম্পর্কে জোকোভিচ বলেন, ‘এটা অনেক বড় এবং প্রশস্ত কোর্ট। সে আসলে এটা মাথায় রেখেই খেলে। তার বিরুদ্ধে খেললে মনে হয় প্রতিটা বলই যেন দেয়ালে লেগে আবার এপাশে ফিরে আসছে। আসলে বড় আকৃতির কোর্টে খেলতে সে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এখানে তার সাফল্যের কারণ সেটাই।’
এদিকে, বিংশতম গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালের দিনে আবহাওয়াটাও নিজের মন মতোই পাচ্ছেন নাদাল। জোকোভিচের বিরুদ্ধে ক্লে কোর্টে ১৭ লড়াইয়ের ১৩ টিতেই হাসিমুখে কোর্ট ছাড়া নাদাল নিজেই জানালেন সেটা, ‘এই আবহাওয়াটা আসলে আমার স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে সাহায্য করে। আমার বল অনেক বেশি টপস্পিন করে। বাতাসে বল অনেক দ্রুত চলবে। তাছাড়া ফোরহ্যান্ড মারার ক্ষেত্রেও আমি কিছুটা সুবিধা পাব।’
নাদাল যদি প্রকৃতি থেকে সাফল্যের অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারেন, তাহলে জোকোভিচ সেটা খুঁজছেন অতীত সাফল্য থেকে। নাদালের প্রিয় টুর্নামেন্ট রোম মাস্টার্সে তাকে হারানোটাই আজ তাকে অনুপ্রাণিত করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রোমের ঐ সাফল্য নিশ্চিতভাবে আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।’