করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ও কর্পোরেট কর কমানো প্রয়োজন

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা অপরিবর্তিত রয়েছে। ঢাকা চেম্বার মনে করে, বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সীমা ৩ লাখ টাকা হওয়া উচিত এবং সব ধরনের কর্পোরেট কর কমানো প্রয়োজন। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এক প্রতিক্রিয়ায় এ তথ্য জানিয়েছে। বাজেট প্রস্তাবে সংকুচিত ভিত্তিমূল্য পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে, যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী ও ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার উপর প্রভাব পড়তে পারে। রাজস্ব আদায়কে জাতীয় আয়ের ১৩.৫% থেকে আগামী ৫ বছরে ১৭ শতাংশে নেয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে তা অর্জনে করের আওতা বৃদ্ধি করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। ডিসিসিআই মনে করে, এর ফলে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি পাবে। এফডিআর-এর উপর ব্যাংক কর্তৃক সুদ আয় কর্তন চূড়ান্ত দায় হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানানো হয়েছে। পেনশন ও সঞ্চয়পত্র এবং ওয়েজ আর্নারদের বন্ডে বিনিয়োগ হতে অর্জিত সুদ আয়করমুক্ত রাখা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। নন-পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির আয়কর হার ৩৭.৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ ইতিবাচক। সেইসাথে অন্য সকল কর্পোরেট করের হার হ্রাসের দাবি করেছে ডিসিসিআই। ডিসিসিআই উল্লেখ করেছে, দেশের অনগ্রসর অঞ্চলগুলোতে কর অবকাশ সুবিধা ৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছরের প্রস্তাব করায় ডিসিসিআই সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। এছাড়া ডিসিসিআই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় সরকারি তহবিলে দানকৃত অর্থকে সিএসআর-এর অন্তর্ভুক্ত ঘোষণা করার প্রস্তাবকেও অভিনন্দন জানাচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৭.৩%। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে অর্থনীতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। রপ্তানি খাতকে উত্সাহিত করার লক্ষ্যে পোশাকশিল্প খাতের রপ্তানির উপর অগ্রিম আয়কর ০.৮০ শতাংশ হতে হ্রাস করে ০.৩ শতাংশ এবং অন্যান্য সকল রপ্তানির ক্ষেত্রে এ হার ০.৮ শতাংশ হতে হ্রাস করে ০.৬ শতাংশ করার যে প্রস্তাব করা হয়েছে ঢাকা চেম্বার তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের বাজেটের ঘাটতি মিটাতে সরকার ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা হতে ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যেতে পারে বলে ডিসিসিআই মনে করে। প্রস্তাবিত বাজেটে অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন ঘোষণার মধ্যে পদ্মা সেতু, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, প্রধান মহাসড়কগুলো চার লেনে উন্নীতকরণ, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন সংক্রান্ত ঘোষণা বেসরকারিখাতকে উত্সাহিত করবে বলে ঢাকা চেম্বার মনে করে। প্রস্তাবিত বাজেটে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য ট্যাক্স হলিডে সুবিধা প্রদানের প্রস্তাবকে ডিসিসিআই স্বাগত জানিয়েছে। সার্বজনীন স্ব-নির্ধারণী পদ্ধতিতে দাখিলকৃত আয়কর রিটার্ন অডিট না করার শর্ত এবং সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের উপর প্রস্তাবিত ২০% বৃদ্ধির পরিবর্তে ১০% নির্ধারণ করা হলে ব্যবসায়ীমহল সুফল পাবে এবং এতে করদাতা ও কর প্রশাসনের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে বলে উল্লেখ করেছে ডিসিসিআই।