চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বাজেটে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে শঙ্কিত
সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৪, ২৩:১২
ঘোষিত নতুন জাতীয় বাজেটে এনবিআর-এর রাজস্ব আয় বাড়াতে এবার অন্যান্য পণ্যের সাথে জ্বালানি তেলের শুল্ককর বাড়ানোর প্রস্তাবে এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা শংকিত হয়ে পড়েছেন। জ্বালানির মূল্য বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বাজারের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হবে বলে তারা জানিয়েছেন। কারণ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশব্যাপী পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতিটি পণ্যের ক্ষেত্রে বর্ধিত পরিবহন ব্যয় মিটাতে গিয়ে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা জানান, এ মুহূর্তে চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। দুই-একটি পণ্যের সামান্য মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া তেমন কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির আশংকায় ব্যবসায়ীদের আসন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে হিসাব-নিকাশ করতে হচ্ছে।
গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে চিনি ও খোলা সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। বাজেট ঘোষণার অন্ততঃ এক সপ্তাহ আগেই পিঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১৮ টাকা থেকে একলাফে ৩০ টাকায় উপনীত হয়েছে। গরম মশলার বাজার বিগত ৫/৬ মাস ধরেই চড়া। খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল গতকাল শনিবার বিক্রি হয়েছে ৯০ টাকা। দুই-একদিন আগেও মান ভেদে খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চিনি প্রতি কেজিতে ৩ টাকা থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি ৪৫ টাকার চিনি বাজার ভেদে ৪৮ টাকা থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবারের বাজেটে আমদানিকৃত চিনির শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া মসুর ডাল, বিভিন্নধরনের চাল, বোতলজাত ও পলিপ্যাকের সয়াবিন তেলের দাম আগের মতোই ছিল গতকাল পর্যন্ত। ভ্যানগাড়ির বিক্রেতারা মসুরের ডাল মান ভেদে প্রতি কেজি ১১০ টাকা, ৯০ টাকা, ৮০ টাকা এবং ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন। তাদের কাছে দুইটি পৃথক মানের পিঁয়াজ প্রতি কেজি যথাক্রমে ২০ টাকা ও ২৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) সূত্র জানায়, নতুন বাজেটে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টম্স এসেসেমন্ট ভ্যালু বাড়ানো হয়েছে। এতে জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে ভর্তুকির পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি বিক্রিতে লোকসান সামাল দিতে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে বিপিসি নয়, সরকারই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। সূত্র জানায়, তার জানামতে সর্বশেষ প্রতি লিটার জ্বালানিতে কাস্টম্স এসেসেমন্ট ভ্যালু ছিলো ৩১ সেন্ট। তবে বর্তমানে কতো বাড়ানো হয়েছে তা জানা না গেলেও বাড়ানো হয়েছে - এটা নিশ্চিত।
২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের বাজারমূল্য অনুযায়ী বিপিসি’র জ্বালানি তেল বিক্রি বাবদ প্রতি মাসে লোকসানের পরিমাণ ছিলো ৪০০ কোটি থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। বিপিসি’র একটি উর্ধ্বতন সূত্র জানান, গত ৬ মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যের স্থিতিশীলতার কারণে বিপিসি’র প্রতি মাসে লোকসানের পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছিলো।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি এবং খাতুনগঞ্জ ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা ঠিক হবে না। কারণ জ্বালানি তেলের সাথে দেশের প্রতিটি সেক্টর জড়িত। জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে দেশের প্রতিটি সেক্টরের ব্যয় বেড়ে যাবে। তার প্রভাব পড়বে পণ্যমূল্যের উপরও।