অদ্ভুত যত শখ
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৪, ২২:০০
মানুষের শখের অন্ত নেই। তবে এখানে কয়েকজন মানুষের অদ্ভুত শখের কথা তুলে ধরা হলো, যারা নিজেদের চেহারা পরিবর্তন করে পছন্দের কোনো মানুষ কিংবা টিভি চরিত্রের মতো বানিয়েছে কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচ করে।
হতে চাই জেনিফার লরেন্স
হলিউডের ঝলমলে জগতে অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্সের পদার্পণের পর থেকেই তার বিশাল ভক্ত কিটি। বিশেষ করে সুপার হিট ছবি ‘হাঙ্গার গেমস’-এর মাধ্যমে জেনিফারের তারকা খ্যাতি আকাশচুম্বি হলে তার প্রতি অনুরাগ প্রচণ্ডরকম বেড়ে যায় ৩০ বছর বয়সী কিটির। গত বছর ‘সিলভার লাইনিং প্লেবুক’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের কারণে জেনিফারের অস্কার জয়ের পর কিটি আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। সে গিয়ে হাজির হলো প্লাস্টিক সার্জনদের কাছে। বললো আমাকে জেনিফার লরেন্স করে দিন। আর প্রিয় তারকার মতো হতে গিয়ে এক সন্তানের জননী কিটিকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হলো। শুধু মুখেই নয়, প্রায় সারা শরীরে কাটাছেঁড়া করাতে হলো তাকে। খরচ পড়লো ২৫ হাজার ডলার। অবশ্য টিভিতে নিজের এই জেনিফার ধাঁচের চেহারা দেখানোর প্রতিশ্রুতি দেয়ার সুবাদে সার্জারিতে কিছুটা ডিসকাউন্টও মিললো তার।
হতে চাই কুিসত!
বয়ফ্রেন্ডের কাছে ছ্যাঁকা খেয়ে নিজের সুন্দর মুখটাকে কাটাছেঁড়া করে দুনিয়ার সবচে’ ‘কুিসত’ মেয়ের মতো করতে চেয়েছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই সুন্দরী। টানা ৬ বছর মেয়েটির সঙ্গে প্রেমপর্ব চালিয়ে যাবার পর তার বয়ফ্রেন্ডের মনে হলো প্রিয়তমার অনিন্দ্য সুন্দর মুখশ্রীর আকর্ষণে আরও অনেক রোমিও জুটে যেতে পারে যা তার পক্ষে সামলানো কঠিন হবে। শেষ পর্যন্ত মেয়েটির মন ভেঙ্গে দিয়ে অন্য এক নারীর হাত ধরে চলে যান তিনি। এই কষ্ট সহ্য করতে পারলো না মেয়েটি। ভাবলো অতিরিক্ত সৌন্দর্যই তার কাল হয়েছে। চলে গেল সে প্লাস্টিক সার্জনদের কাছে। বললো আমার সুন্দর মুখটাকে কুিসত বানিয়ে দিন। প্রচুর টাকার প্রলোভন সত্ত্বেও এই জঘন্য কাজ করতে রাজি হলেন না ডাক্তাররা। তারা মেয়েটির মানসিক সমস্যা হয়েছে ধারণা করে তাকে চিকিত্সার পরামর্শ দিয়ে বিদায় করলেন।
হতে চাই কার্টুন গার্ল
সিঙ্গাপুরি ফ্যাশন ডিজাইনার জ্যাকুলিন কোহ ছোটবেলা থেকেই কার্টুনের পোকা। ২৯ বছরে এসেও তার মাথা থেকে কার্টুনের ভুত দূর হলো না, বরং আসক্তি আরও বেড়ে গেল। আকর্ষণ এতই প্রবল হয়ে উঠলো যে এক পর্যায়ে নিজেকেই তিনি কার্টুনের চরিত্র বলে মনে করা শুরু করলেন। এক পর্যায়ে নিজের মুখকে কার্টুন গার্লের মতো করতে প্লাস্টিক সার্জনদের কাছে গিয়ে হাজির হলেন তিনি। আর পুরোপুরি মনে না ধরা পর্যন্ত মুখে অন্তত দশবার সার্জারি করালেন। এই উদ্ভট কাজে খরচ হলো সব মিলিয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার ডলার। আর কার্টুন গার্ল জ্যাকুলিনের অনেক ভক্তও জুটে গেল। তারাও কিভাবে কার্টুন গার্ল হওয়া যায়, সে ব্যাপারে জ্যাকুলিনের পরামর্শ নিল।
হতে চাই ফটোশপড্!
যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসের বাসিন্দা টিভি অনুষ্ঠান প্রযোজক টিনা এভারি (৩৭) অনেক দিন থেকেই নিয়মিত ফেসবুক ও স্কাইপিতে অংশগ্রহণ করেন আর নিজের হরেক রকম ছবি আপলোড করে থাকেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটে তার ছবিগুলো আকর্ষণ হারাতে শুরু করে। তিনি শুনেছিলেন ফটোশপ সফটওয়্যার দিয়ে ছবিকে পরিবর্তন করা যায়। তাই নিজের চেহারা স্থায়ীভাবে ফটোশপড্ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বেভারলি হিলসের বিখ্যাত প্লাস্টিক সার্জন ড. রিচার্ড এলেনবোগেনের দ্বারস্থ হন তিনি। খরচ করেন নগদ ১৫ হাজার ডলার। তিনি চেহারা এমন করে দিলেন যাতে সারাক্ষণ মনে হয় কম্পিউটারে ঘষামাজা করা মুখ!