লোহাগাড়ায় ১৬ মাসে ১৬ জনের আত্মহত্যা
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৪, ২২:১১
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। উপজেলায় গত ১৬ মাসে ১৬টি আত্মহত্যা হয়। গত ১৬ মাসে লোহাগাড়া থানায় এ সংক্রান্ত ১৩টি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি আধুনগর রশিদার ঘোনা এলাকার মিয়া মো:সালাহ উদ্দীনের পুত্র শামীম উদ্দীন (৩৭) নিজের লাইসেন্স করা বন্ধুক দিয়ে বুকে গুলি করে আত্মহত্যা করে। ২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল আমিরাবাদের রাজঘাটা এলাকায় মৃত মোহাম্মদুল হকের পুত্র মো: হোসাইন (২৬) বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। ৩ আগস্ট চুনতির মৌলভীপাড়ার আহমদ ছফার পুত্র হেলাল উদ্দীন (২৭) বিষপানে আত্মহত্যা করে।
২২ আগস্ট পুটিবিলার বড়ুয়া পাড়ার মৃত মনিন্দ্র বড়ুয়ার পুত্র বদি প্রিয় বড়ুয়া (৩৫) নিজ দোকানে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।
চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি উত্তর পদুয়ার ওসমান (২৫) বিষপানে, ৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম কলাউজান সওদাগর পাড়ায় আবদুর রহিম (২৬) নিজের বুকে গুলি করে, ১৫ ফেব্রুয়ারি পুটিবিলা বড়ুয়া পাড়ায় বাবুল বড়ুয়া (৪০) গলায় ফাঁস লাগিয়ে, ২ এপ্রিল আধুনগর সিপাহীর পাড়ায় আবদুর রহিম (৪৮) তার স্ত্রী নাছিমা আক্তার (৩২), তাদের দু’মেয়ে লাকী আক্তার (১২) ও তাসফিয়া সুলতানা রেশমী (১০) আগুনে দগ্ধ হয়ে আত্মহত্যা করে।
গত ১৮ এপ্রিল আমিরাবাদ পেশকার পাড়ার নজরুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা বেগম (৩০) বসতঘরের চালের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। গত ২২ এপ্রিল পুটিবিলা পহরচান্দা মাইল্ল্যা কাটা এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের পুত্র আব্দুল গফুর ওরফে আব্দুল গাফ্ফার ওরফে মুন্না (৭৩) বসতঘরের পেছনে গর্জন গাছের সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। গত ৯ মে লোহাগাড়া উপজেলা সদরের উকিলের পাড়ার নুরুল আবছারের কন্যা রিমু আক্তার (৭) বৈদ্যুতিক তারের শর্ট লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।
সচেতন মহলের মতে, পারিবারিক কলহ, পরকিয়া, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, জায়গা-সম্পত্তির বিরোধ, প্রেম-বিরহ ও পরস্পরের মধ্যে সন্দেহ-অবিশ্বাস আত্মহত্যার অন্যতম কারণ।
এব্যাপারে লোহাগাড়া থানার ওসি মো: শাহজাহান পিপিএম জানান, পারিবারিক কলহের কারণেই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। সামাজিকভাবে যদি জনগণকে সচেতন করা যায় তাহলে আত্মহত্যার ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে বলে তিনি জানান।