আঁধার ঘরে চাঁদের আলো

অভাব দরিদ্রতা দমাতে পারেনি এদেরকে। শত প্রতিকূলতার মাঝে ভাল ফলাফল করলেও সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যত্। আর এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। আদমদীঘিতে ভ্যান চালকের মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে বগুড়ার আদমদীঘির কোমারপুর গ্রামের ভ্যানচালক জাহিদুল ইসলামের মেয়ে আপেলা খাতুন কোমারপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে দরিদ্রকে জয় করেছেন। ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। কিন্তু ভ্যান চালক বাবা ও গৃিহণী মা জুলেখা বেগম তার সে স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নালিতাবাড়ির রাসেলের চোখে এখন শুধুই অন্ধকার শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত গারো পাহাড় এলাকার সমশ চূড়া গ্রামের দিনমজুর ইজ্জত আলীর ছেলে রাসেল মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেলেও দু’চোখে এখন শুধুই অন্ধকার দেখছে। রাসেল শুধু এসএসসিতেই নয় ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতেও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। প্রাইভেট পড়াতো দূরের কথা পেটের ভাত জোগাড় করতে দিনমজুর বাবার সাথে প্রায়ই তাকে মজুরের কাজ করতে হয়েছে। কোন সহূদয় ব্যক্তি যদি তার পাশে দাঁড়ায় তাহলে তার জীবনের অন্ধকার মুছে আলোয় ভরে যাবে। ডোমারে দিনমজুরের ছেলে পেয়েছে জিপিএ-৫ ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম বোড়াগাড়ি সবুজ পাড়া গ্রামের আব্দুল হক দিনমজুরের পুত্র। ৬ সদস্যের ১ম সন্তান মোঃ নাজমুল ইসলাম। সে পিতার সঙ্গে অনেক সময় দিনমজুরের কাজে সহযোগিতা করতো। সে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিল। তার স্বপ্ন লেখাপড়া করে ডাক্তার হওয়া। তার স্বপ্ন কি আদৌ পূরণ হবে? পরীক্ষার ফি দিতে না পেরে কেঁদেছিলো সুমা বাবা পেশায় জেলে। নদী নালা, খাল বিল শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ ধরা পেশায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এসএসসি পরীক্ষার ফি দিতে না পেরে কেঁদেছিলো সুমা রাজবংশী। সেদিনের কান্না তার কাছে আজ হাসিতে পূর্ণ। কিন্তু ভবিষ্যত্ চিন্তা তাকে পিছু ছাড়ছে না। সে এ বছর ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউফ্রেজিস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে ব্যবসায় শিক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়েছে। সুমার উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাবা শুকলাল রাজবংশী। উলিপুরে দরিদ্রতাকে জয় করেছে জান্নাতী পাঁচ বোনের বড় সংসার। বাবা প্রাইমারী স্কুলে মাস্টাররোলে পিওন। মাসিক বেতন ৬ শ’ টাকা। ২০ হাত দৈর্ঘ্যের একমাত্র চালা ঘরে বসবাস ওদের। এমনি এক পরিবারের জন্ম নেয়া জান্নাতী বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝেও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। জান্নাতী স্বপ্ন ডাক্তার হয়ে সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সেবা করার। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুরে জান্নাতীর বাড়ি। আদিতমারীতে রিক্শা চালকের ছেলে পেয়েছে জিপিএ-৫ রিকশা চালকের ছেলে আরিফুল ইসলাম এবছর নামুড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। অভাব-অনটনের কারণে তার মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ ও সে নিজেও অন্যের বাড়িতে কাজ করে এ সাফল্য পেয়েছে। শুধু তাই নয় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য দিনরাত কাজ করে চলছে বুড়ির বাজারের চায়ের দোকানে। এত কিছুর পরেও চিন্তিত তার উচ্চ শিক্ষা নিয়ে। অদম্য এ মেধাবী ছাত্রের বাড়ি উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি গ্রামে।