বিপিএল ফিক্সিং পূর্ণাঙ্গ রায় পেল সংশ্লিষ্টরা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় আসরের ফিক্সিং কেলেঙ্কারি নিয়ে রায়ের ‘কারণ’ ব্যাখ্যা করে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিসিপ্লিনারি কমিটির গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল আইসিসি ও বিসিবির পক্ষ থেকে এই ‘রায়ের কারণ’ প্রাপ্তি স্বীকার করে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে খবরটি। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির অফিসে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন এই খবর নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘ট্রাইব্যুনাল আমাদের আইনজীবীকে রিজন জাজমেন্ট পাঠিয়েছেন।’ অন্যদিকে আইসিসি ও বিসিবির যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা এই পূর্ণাঙ্গ রায় আইনজীবীদের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেবেন, আপিল করবেন কি না, ‘আমরা এই রায় নিয়ে আগের যে হতাশার কথা জানিয়েছিলাম, সেই অবস্থানই আছে। এখন আমরা এই লিখিত কারণগুলো বিশ্লেষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবো; কোনো অংশ নিয়ে আপিল করা হবে কি না, তা ঠিক করবো।’ জানা গেছে, এই এ মাসেরই ২০ তারিখের আশেপাশে রায়ে দোষী বলে বিবেচিতদের শাস্তিও ঘোষণা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ম্যাচগুলোর দিকে চোখ রাখার জন্য বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে এক চুক্তি হয়। আর সেই চুক্তির ফলে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু) প্রতিটি ম্যাচে তদন্ত করে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটসের কমপক্ষে দুটি ম্যাচ সন্দেহজনক বলে রায় দেয়। এরপর অধিকতর তদন্তশেষে চাঞ্চল্যকর ভাবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সেরা তারকা মোহাম্মদ আশরাফুলসহ কয়েকজন ক্রিকেটারের নাম বেরিয়ে আসে। এরপর দীর্ঘ গুঞ্জনের পর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরেই আইসিসি ও বিসিবি সংবাদ সম্মেলন করে বলে ৯ জন খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত। এরপর গত ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ও আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রশীদকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রধান হিসেবে মনোনীত করে বিসিবি। পরে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন কমিটির বাকি ১০ সদস্যকে। এরপর ১০ নভেম্বর ওই ডিসিপ্লিনারি কমিটি সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন আজমালুল হোসেন কিউসি এবং সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাশেম। কয়েক দফা শুনানির পর ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক রায় ঘোষণা করেন সেই ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বলা হয়, অভিযুক্ত সেলিম চৌধুরী, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিক, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটসের কর্মকর্তা গৌরব রাওয়াত, জাতীয় ক্রিকেটার মোশাররফ রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিন এবং ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন স্টিভেন্সের বিপক্ষে কোনো অভিযোগ প্রমাণ হয়নি।