বরেন্দ্র অঞ্চলে কমেছে বৃষ্টিপাত

বিগত ৫ বছরে বরেন্দ্র অঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাত কমেছে। চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকার গড় বৃষ্টিপাত অর্ধেকে নেমে এসেছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন (বিএমডিএ) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টি কমায় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এতে এই অঞ্চলের জীব-বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে বলে পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন। বিএমডিএ’র তথ্যানুযায়ী, বিগত ৫ বছরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও নওগাঁর পোরশায় বার্ষিক বৃষ্টিপাত কমেছে। সূত্র মতে, গোদাগাড়ী উপজেলায় ওই সময়কালে বার্ষিক শতকরা ৪১ দশমিক ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত কমেছে। তানোর উপজেলায় কমেছে শতকরা ৪০ দশমিক ২৭ মিলিমিটার। পোরশা উপজেলায় কমেছে শতকরা ৪৩ দশমিক ৯৯ মিলিমিটার। নওগাঁর ধামইরহাটে কমেছে শতকরা ২৬ দশমিক ৬০ মিলিমিটার। একই সময়ে নিয়ামতপুরে শতকরা ১৭ দশমিক ৩২ মিলিমিটার, সাপাহারে ১২ দশমিক ৪৬, পত্নীতলায় ৪ দশমিক ৭২, নাচোলে ২৪ দশমিক ৭২ ও গোমস্তাপুরে ৭ দশমিক ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত কমেছে। এ ব্যাপারে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ২০০১ সালের পর রাজশাহী অঞ্চলে খরার প্রবণতা বেড়েছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া সম্পর্কিত খরার সঙ্গে কৃষিভিত্তিক খরার (ভূ-গর্ভস্থ পানির সাহায্যে চাষাবাদে ক্ষতি) সমন্বয়ে এই অঞ্চলে খরা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী তন্ময় স্যানাল বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে এমনিতেই বৃষ্টিপাত কম। বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে বৃষ্টিপাত আরো কম হচ্ছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে এ অঞ্চলের খাল-বিল, নদ-নদী পানিশূন্য থাকছে। এতে এ অঞ্চল আরো উষ্ণ হয়ে পড়ছে।