জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল
কোন কর্তৃত্ববলে নিজাম হাজারী এখনো এমপি
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৪, ২৩:১৬
আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারী কোন কর্তৃত্ববলে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদে বহাল রয়েছেন তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ঐ আসন কেন শূন্য ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছে আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আইন সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজি প্রিজন, চট্টগ্রাম কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ও নিজাম উদ্দিন হাজারীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেয়।
এছাড়া একটি অস্ত্র মামলায় নিজাম হাজারীর কারাবাস সংক্রান্ত সকল তথ্য ও নথি প্রতিবেদন আকারে এক মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে আইজি প্রিজন ও চট্টগ্রাম কারাগারের জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
গত ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন ফেনী জেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন ভুঁইয়া। প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে রিট আবেদনে বলা হয়, ‘২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের ১৯(ক) ধারায় ১০ বছর এবং ১৯(চ) ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড হয় নিজাম হাজারীর। চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানায় হওয়া মামলায় চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাকে এই সাজা দিয়েছিলেন। উভয় দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলে রায়ে বলা হয়। অর্থাত্ ১০ বছর সাজা ভোগ করবেন নিজাম হাজারী। এই আদেশের বিরুদ্ধে নিজাম হাজারী হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। উচ্চ আদালত তার সাজা বহাল রাখেন। সর্বশেষ তিনি রিভিউ আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেন।’ রিটে আরো বলা হয়, নিজাম হাজারী ১৯৯২ সালের ২২ মার্চ হাজতে যান। ঐ বছরের ২৮ জুলাই তিনি জামিন পান। কিন্তু তার আটকাদেশ বাতিল হয় ঐ বছরের ১৫ আগস্ট এবং ঐ দিনই তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পান। এই হিসাবে, নিজাম হাজারী হাজতে ছিলেন মোট চার মাস ২৪ দিন। নথিপত্রে দেখা যায়, পলাতক থাকা অবস্থায়ই ২০০০ সালের ১৬ আগস্ট ঐ মামলায় নিজাম হাজারীকে সাজা দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০০০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাকে ঐ দিনই কারাগারে পাঠানো হয়। তার কয়েদি নম্বর ছিল ৪১১৪/এ। ২০০৫ সালের ১ ডিসেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। অর্থাত্ কয়েদি হিসেবে তিনি কারাভোগ করেন পাঁচ বছর দুই মাস ১৭ দিন। এই হিসাবে হাজতবাস ও কয়েদ খাটা-দুয়ে মিলে নিজাম হাজারী সাজা ভোগ করেছেন পাঁচ বছর সাত মাস ২১ দিন। তাকে সাজা রেয়াত (মাফ) দেয়া হয়েছে এক বছর ছয় মাস ১৭ দিন। কারাগারে ঢোকা ও মুক্তি পাওয়ার সময় ধরে নিজাম হাজারী চার মাস ২৪ দিন হাজতবাস করেছেন। কিন্তু তার কয়েদি রেজিস্টারের তথ্য হলো, তিনি তিন বছর দুই মাস ২৫ দিন হাজত খেটেছেন।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আল আমিন সরকার। শুনানিতে মনজিল মোরসেদ বলেন, সম্প্রতি পত্রিকায় এসেছে, নিজাম উদ্দিন হাজারী একটি অস্ত্র মামলায় সাজা কম খেটেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামার মামলা-মোকদ্দমার ঘরে লেখা হয়েছে ‘মামলা নিষ্পত্তি ও মুক্তি’। অর্থাত্ সাজা খাটার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ না করে তিনি হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন। যা দণ্ডবিধির ১৮১ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি বলেন, সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। কারণ ঐ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, তিনি যদি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বত্সরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বত্সরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে’। সেই হিসেবে তিনি ২০০৯ সাল পর্যন্ত সাজা খাটবেন। এরপর ৫ বছর অতিবাহিত হলে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন হাজারী। কিন্তু এর আগেই তথ্য গোপন করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং এমপি হয়েছেন তিনি। ফলে আইন অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ অবৈধ। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, দীর্ঘদিন পর কিভাবে এই তথ্য প্রকাশিত হলো? তখন মনজিল মোরসেদ বলেন, পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম এই তথ্য প্রকাশ করেন যার কারণে নিজাম হাজারী তাকে হত্যা করেছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে।