বিক্ষোভ দমনে ব্যাংককে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন

সামরিক অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভের আশঙ্কায় গতকাল রবিবার থেকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক জুড়ে হাজার হাজার সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার সমর্থক রেডশার্ট বাহিনী ও গণতন্ত্রের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন সেনা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের হুমকি দেয়ার প্রেক্ষাপটে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সেনাবাহিনী। এর আগে সেনাপ্রধান প্রায়ুথ চ্যান-ওচা বিক্ষোভে অংশ না নিতে আগ্রহীদের সতর্ক করে দেন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্দেশ অমান্য করে বিক্ষোভ করলে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে কারদণ্ডও ভোগ করতে হতে পারে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাতে কর্ণপাত করছে না। গতকালও বিভিন্ন স্থানে খন্ড খন্ড বিক্ষোভ করে অভ্যুত্থান বিরোধীরা। খবর ব্যাংকক পোস্ট ও এএফপির। সূত্র জানায়, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের ওপর সেনাবাহিনীর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের অঙ্গীকার করায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে জান্তা সরকার। ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করলে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা হতে পারে। আবার প্রশ্রয় দিলে ক্ষমতায় থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একারণে সেনা সরকারের কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠেছে। গত ২২ মে দেশটির বেসামরিক সরকারের কাছ থেকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর সকল ধরণের গণবিক্ষোভ বন্ধে সামরিক জান্তা পদক্ষেপ নেয়ার পরও দেশটিতে বিক্ষিপ্তভাবে অভ্যুত্থান বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। জাতীয় পুলিশের উপ-প্রধান সোমিয়ত পমপাংমুয়াং বলেন, রবিবার বিকেলে যেসব স্থানে বিক্ষোভ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় রাজপথে সাড়ে ৬ হাজার সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই বিশাল বাহিনী রাজধানীর পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ব্যাংককের ১১টি স্থান সেনাবাহিনী দখলে নিয়েছে যাতে বিক্ষোভকারীরা সেই স্থানগুলোতে জড়ো না হতে পারেন।