আসলে আমরা নিজেদেরকেই সম্মান দিতে জানি না

১৯৮৯ সালের ৯ জুন মুক্তি পেয়েছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যবসা সফল ছবি ‘বেদের মেয়ে জোসনা’। তখনও বুঝিনি ইতিহাস তৈরি করবে আমার এই ছবিটি। ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ বাংলাদেশের এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আয়ের ব্যবসা সফল সিনেমা। এর আয় এবং জনপ্রিয়তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি বাংলাদেশের কোনো ছবি। ৪০ কোটিরও বেশি টাকা আয় করে ছবিটি। মাত্র ছ’ মাসের ভেতরে ছবিটি নিয়ে মারামারি এমনকি ভক্তের আত্মহত্যার খবর পেলাম। কোনো চলচ্চিত্র সারাদেশকে এভাবে নাড়া দেবে ভাবিনি। বাইরের যেকোনো দেশ হলে রজতজয়ন্তীর বিশাল অনুষ্ঠান হতো। আফসোস আমরা নিজেরা নিজেদের সম্মান দিতে জানি না। নয়তো আমাদের সবার এই গর্বের সিনেমা নিয়ে তো সারাদেশব্যাপী অনুষ্ঠান হওয়া উচিত। একজন শিল্পী হিসেবে তো সেই মহাউত্সবে আমি অংশগ্রহণের জন্য মুখিয়ে থাকতাম। আব্বাসউল্লাহ শিকদার ও মতিউর রহমান পানুর মালিকানায় আনন্দমেলা চলচ্চিত্র লিমিটেডের ব্যানারে তোজাম্মেল হক বকুলের কাহিনী, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছবিটি নির্মিত হয়। পরিচালক বকুল এ ছবিতে ফোকধারার ১১টি গান রাখেন যার ১০টি গানই নিজেই লিখেছেন। এই পুরো টিমটির কাছে আমার আজীবনের কৃতজ্ঞতা। চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অঞ্জু ঘোষ। ছবিটি এতটাই আলোচিত হয়েছিল যে ১৯৯১ সালে মতিউর রহমান পানুর পরিচালনায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনায় রিমেক হয় এটি। আমার জায়গায় শুধু অভিনয় করেছিলেন কলকাতার চিরঞ্জিত্। বাংলাদেশ-ভারতের প্রথম প্রযোজনার এ ছবিটিও সেসময় দারুণ ব্যবসা সফল হয়েছিল দুই বাংলাতেই। এটা যদি বাংলাদেশে না হয়ে হলিউডে নির্মিত হতো তাহলে এই ছবিটি জায়গা করে নিত পাঠ্যবইয়ে। কাজ হতো নানাভাবে। গবেষণা করা হতো। কিন্তু এদেশে তেমন কিছুই হয়নি। একটা ছবি কেন এত ব্যবসা করল তা নিয়ে কেউ তেমন গবেষণা এবং জানারও চেষ্টা করল না। এটা করলে আরও সফল ছবি এদেশে নির্মাণ হতো। কয়েক মাস আগে হল্যান্ডের এক সাংবাদিক এদেশে আসেন ছবিটি নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি বানাতে। অথচ এদেশের কেউ এটা নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। ‘আফসোস’ ছাড়া আমার আর কীই বা বলার আছে! লেখক :প্রখ্যাত চলচ্চিত্রব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী