ট্রফির গল্প
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৪, ২০:৪২
উচ্চতা ৩৬.৮ সেন্টিমিটার, ওজন ৬.১৭৫ কেজি। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের এই বস্তুর জন্যই এতো আয়োজন। সেই ১৯৩০ সাল থেকে কত রথী-মহারথীরা কত ঝড়-ঝঞ্ঝা পেরিয়ে এই ট্রফি জয়ের জন্য করেছেন কত সাধনা। শুধু একবার ট্রফিতে চুমু খাওয়ার জন্য লড়াই করেছেন জীবন বাজি রেখে। কত প্রতাপশালী ফুটবলার এই ট্রফি হারিয়ে রাজ্যের হতাশা নিয়ে মাঠেই বয়ে দিয়েছেন অশ্রুর সাগর। এই সেই বিশ্বকাপ। ডিজাইন বদলেছে। সামনে আবারও বদলাবে। বদলাবে না শুধু এর গৌরব, বদলাবে না এর পিছনের গল্প। ট্রফির গল্প নিয়ে লিখেছেন কাওসার অপূর্ব
বিশ্বকাপের ট্রফির আদলটা একসময় বর্তমান রূপে ছিল না। আগে এর নাম ছিল ‘ভিক্টোরি’ বা ‘কোউপ ডু মোন্ডে’। ১৯৪৬ সালে ফিফার সাবেক সভাপতি জুলে রিমের স্মরণে এর নাম হয়ে যায় জুলে রিমে ট্রফি। ১৯৩৮ সালে বিশ্বযুদ্ধের সময় ট্রফিটা ছিল বিজয়ী দল ইতালির কাছে। নাত্সী বাহিনীর হাত থেকে রক্ষার জন্য ফিফার সহ-সভাপতি অট্টোরিনো বারাসিস এটি ব্যাংক থেকে তুলে রোমে নিয়ে যান। লুকিয়ে রাখেন একটা জুতার বাক্সে। আবার ১৯৬৬ বিশ্বকাপের মাত্র চার মাস আগে লন্ডনে এক উন্মুক্ত প্রদর্শনী অনুষ্ঠান থেকে চুরি হয়ে যায় এই বিশ্বকাপ। সাত দিন পর খবরের কাগজে মোড়ানো অবস্থায় লন্ডনের নরউড অঞ্চলের সাবারবেন বাগান থেকে একে উদ্ধার করে পিকেলস নামের একটি কুকুর। কুকুরটির মালিক ডেভিড করবার্টকে অবশ্য এর জন্য ছয় হাজার পাউন্ড পুরস্কৃত করা হয়। আর ট্রফিটির বিনিময়ে ১৫ হাজার পাউন্ড দাবি করা চোরকে দেয়া হয় দু’বছরের জেল। ১৯৭০ সালে তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের পর এটা চিরতরে পেয়ে যায় ব্রাজিল। কিন্তু ১৯৮৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর আবারও চুরি হওয়ার পর আর কোন হদিস মিলেনি ট্রফিটির।
প্রথম বিশ্বকাপ
১৯৩০, উরুগুয়ে
চ্যাম্পিয়ন :উরুগুয়ে,
রানারআপ :আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের প্রথম গোল
লুসিয়েন লরেন্ত (ফ্রান্স)
সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ
মেক্সিকোর অ্যান্তোনিও কারবাজাল (১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬)
ও জার্মানির লোথার ম্যাথুস (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০, ১৯৯৪, ১৯৯৮)
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ
জার্মানির লোথার ম্যাথুস (২৫)
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা
ব্রাজিলের রোনালদো (১৫)
জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৪)
জার্ড মুলার (১৪)
দুই ভূমিকায় বিশ্বকাপ জয়
ব্রাজিলের মারিও জাগালো
(খেলোয়াড় - ১৯৫৮ ও কোচ - ১৯৭০)
জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার
(খেলোয়াড় - ১৯৭৪ ও কোচ - ১৯৯০)
কোচ হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপ জয়
ইতালির ভিক্টোরিও পোজ্জো (১৯৩৪ ও ১৯৩৮)
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা দল
জার্মানি — ৯৯
সবচেয়ে বেশি গোলের নজির
ব্রাজিল — ২১০
১৯৭৪ সালে এসে বিশ্বকাপের ট্রফি বদলের সিদ্ধান্ত নেয় ব্রাজিল। সাতটি দেশ থেকে ৫৩টি ডিজাইন এসে জমা পড়ে। তবে সবাইকে পাশ কাটিয়ে বিজয়ী হয়ে যান ইতালির শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগা। প্রথমে এর পুরোটা স্বর্ণ দিয়ে তৈরির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রির অধ্যাপক মার্টিন পোলিয়াকফ মত দেন এতো স্বর্ণ দিলে এর ওজন হবে প্রায় ৭০ কেজি। এতো ভারি ট্রফি তুলতে তো ফুটবলার নয়, লাগবে ভারোত্তোলক। তাই ট্রফির উপরের গোল অংশটি ফাঁপা করে বানানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। আগের ট্রফি ‘চুরি’ যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই কি না এখন ফিফা অনেক সতর্ক। বিজয়ী দল স্রেফ উত্সবের সময়টাতেই পায় আসল বিশ্বকাপ। দেশে ফেরার সময় তাদের দেয়া হয় একটা রেপ্লিকা। প্রথমবার এই ট্রফি জিতে পশ্চিম জার্মানি। তবে বিশ্বকাপের এই রূপই শেষ কথা নয়। আর মাত্র ১৬ বছর পর আবারও বদলে যাবে এই ট্রফি। ট্রফিতে আর মাত্র চারটি দলেরই নাম লেখারই যে জায়গা আছে ! তবে, এই ট্রফিও চুরি হলে ভিন্ন কথা!