সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে দরিদ্র নারীদের জীবিকায়ন
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৪, ২১:৪৯
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামে পাকা রাস্তার পাড় বাঁধছেন দশ নারী শ্রমিক। ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের। আর এজন্য তারা প্রতিদিন দেড়শ’ টাকা হারে মজুরি পান। পাশাপাশি অসহায় এ নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের উপায় করে দিতেও চলছে প্রশিক্ষণের কাজ। শুধু ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়ন নয়; গোটা যশোর জেলার ৯১টি ইউনিয়নের সবগুলোতেই চলছে এ কার্যক্রম।
রাস্তার পাড় বাঁধার কাজে নিয়োজিত মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুল গণির স্ত্রী বুলি বেগম জানান, তার স্বামী অসুস্থ। তাই তাকেই উপার্জন করে সংসার চালাতে হয়। এই কাজের মাধ্যমে প্রতিদিন তিনি ১৫০ টাকা মজুরি পান। এর ৫০ টাকা তার ব্যাংক একাউন্টে সঞ্চয় হয়। বাকি টাকায় তার সংসার চলে। একই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, এই কাজের টাকায় সংসার চালানোর পাশাপাশি তিনি হাঁস, মুরগি ও পশুপালনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন— যা তাকে পরবর্তীতে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।
গ্রামের এসব দরিদ্র ও অসহায় নারীদের সহায়তার জন্য পল্লী সড়ক মেরামতের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি ‘রুরাল এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড রোড মেইনটেনেন্স প্রোগ্রাম (আরইআরএমপি-২)’ গ্রহণ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুদানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, শুধু যশোর নয়, বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের মোট ১ হাজার ৩৭০টি ইউনিয়নে ২৭ হাজার ৪০০ নারী এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। তারা ২৭ হাজার ৪০০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত রয়েছেন। ২০১৩ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত চলবে।
ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকৌশলী শ্যামল কুমার বসু জানান, দরিদ্র অসহায় এ নারীরা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কাজের মাধ্যমে প্রতিদিন দেড়শ’ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। সম্প্রতি এই কর্মসূচি পরিদর্শন করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা।