আঁধার ঘরে চাঁদের আলো
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৪, ২২:২৪
চাপাইনবাবগঞ্জের ৬ মেধাবী শিক্ষার্থী দারিদ্রকে জয় করে এবারের এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও তাদের মনে নেই আনন্দ। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে পৌছার ধাপগুলো অতিক্রম করা নিয়ে শঙ্কিত তারা।
আল মামুন
জেলার রাণীহাটি উচ্চ বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আল মামুন জিপিএ-৫ পেয়েছে। মা মমতাজ খাতুন তার পিতার বাড়িতে বসে সেলাই মেশিনে কাজ করে সামান্য রোজগারে সংসার চালনোর পাশাপাশি ছেলেকে লেখাপড়া করান। মামুন ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে জনগণের সেবা করতে চায়।
সারমিন খাতুন
রাণীহাটি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় হতে বিজ্ঞান বিভাগে সারমিন খাতুন এ প্লাস পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। পিতা নজরুল ইসলাম একজন পঙ্গু কৃষক এবং মাতা রহিমা খাতুন গৃহিনী। নজরুল পরের জমি চাষাবাদ করে সংসার চালান। সারমিন ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী কিন্তু তার পরিবার কি তাকে লেখাপড়া করাতে পারবে এমন প্রশ্ন তার মনে।
শ্রাবন্তি প্রামানিক
সুনীল চন্দ্র প্রামানিক পেশায় একজন নাপিত। তার মেয়ে শ্রাবন্তি প্রামানিক ছত্রাজিত-পুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে। নরসুন্দরের কাজ করে সামান্য রোজগারে সংসার চলে। ভাল কলেজে মেয়েকে লেখাপড়া করানোর ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পিতা সুনীল। তার বাড়ি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার যুক্তরাধাকান্তপুর গ্রামে।
ফরিদা পারভিন
ফরিদা পারভিন এবার এসএসসি পরীক্ষায় ছত্রাজিতপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফরিদার পিতা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সানাউল্লাহ ৪ বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। টানাপোড়েনের সংসারে স্বামীর পেনশনের সামান্য টাকায় ফরিদার মা চাঁপা বেগম ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে নিয়ে সংসার চালান। ফরিদা ভবিষ্যতে শিক্ষক হয়ে চায়।
তাজকেরা খাতুন
লিবিয়া ফেরত বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর কলোনীর খাইবার আলীর মেয়ে তাজকেরা খাতুন কামাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে এবারের পরীক্ষায় বিজ্ঞানে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। তার মা জোছনা বেগম গৃহিনী। অভাব অনটনের মধ্য চলেছে তাজকেরার লেখাপড়া। অদম্য মেধাবী তাজকেরা ডাক্তার হতে চায়।
উম্মে কুলসুম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মাঝপাড়া এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ি নূরজাহান বেগম ও আজিজুল ইসলামের মেয়ে উম্মেকুলসুম বিথি কামাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাপ-মায়ের ইচ্ছা একমাত্র মেয়ে কুলসুমকে ভবিষ্যতে ডাক্তারি পড়ানোর। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে পিতা মাতার স্বপ্ন পুরণে আর্থিক যোগান যোগাবে কে?