নাদালের নবম

দুজনের সামনেই ছিলো ইতিহাস গড়ার সুযোগ। শেষ পর্যন্ত নোভাক জোকোভিচকে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন রাফায়েল নাদালই। ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে জোকোভিচকে হারিয়ে ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসাবে টানা পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জিতলেন এই স্প্যানিয়ার্ড। যেটি ছিল এই টুর্নামেন্টে সবমিলে তার নবম এবং গ্র্যান্ড স্ল্যাম বিচারে চতুর্দশ শিরোপা। গ্র্যান্ড স্ল্যাম সংখ্যার বিচারে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন পিট সামপ্রাসকেও। রেকর্ড ১৭ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ী রজার ফেদেরারই কেবল সামনে তার। অথচ, ম্যাচের শুরুটা ইঙ্গিত দিচ্ছিল অন্য কিছুরই। চলতি বছরে ক্লে মৌসুমে একটি মাত্র শিরোপা জেতা নাদাল ক্লে কোর্টে গত দশ বছরে সবচেয়ে বাজে মৌসুমটাই কাটাচ্ছিলেন নাদাল। জিততে পেরেছেন একটি মাত্র শিরোপা। আর জোকোভিচের বিরুদ্ধে সর্বশেষ চারটি লড়াইয়েই হার নিয়ে কোর্ট ছাড়তে হয়েছিল নাদালকে। তবে, নাদাল প্রমাণ করলেন অন্যসব টুর্নামেন্টে ফলাফল যেমনই হোক প্যারিসের লাল কোর্টে এখনও অজেয় তিনি। প্রথম সেট ৩-৬ গেমে হেরে গেলেও পরের তিনটি সেট ৭-৫, ৬-২, ৬-৪ গেমে জিতে নবম বারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেন শিরোপা জেতেন তিনি। গত দশ বছরে প্যারিসের এই লাল কোর্টে একটি মাত্র হারের বিপরীতে এটি ছিল নাদালের ৬৭তম জয়। আর ফাইনালে জোকোভিচের এটি তৃতীয় পরাজয়। ম্যাচ শেষে আনন্দের কান্নায় ভেঙ্গে পড়া নাদাল নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি দারুণ লড়াইয়ের জন্য অভিনন্দন জানালেন প্রতিপক্ষকেও, ‘নোভাকের বিরুদ্ধে জিততে সবসময়ই আমার সেরাটা ঢেলে দিতে হয়। আজও তার ব্যতিক্রম ছিল না। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে যেটা কেড়ে নেয়া হয়েছিল (চোটের দিকে ইঙ্গিত করে) সেই শিরোপাই ফেরত পেলাম আমি। আমি নিশ্চিত জোকোভিচ অবশ্যই একদিন শিরোপাটা জিততে পারবে।’ এই একটি মাত্র শিরোপা জিতলেই ইতিহাসের মাত্র অষ্টম খেলোয়াড় হিসাবে ক্যারিয়ার স্ল্যাম পূর্ণ হয়ে যেত জোকোভিচের। ফিরে পেতেন র্যাঙ্কিং শ্রেষ্ঠত্বও।