আমরা দেশকে গৌরবান্বিত করবো: তোরে

আইভরি কোস্টের সোনালী প্রজন্মের শেষ সুযোগ মানা হচ্ছে ব্রাজিল বিশ্বকাপকে। দারুণ প্রতিভাধর, বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া; এমন তকমা নিয়ে গত দুটি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে গিয়েও শেষ পর্যন্ত দুবারই দিদিয়ের দ্রগবা, ইয়া ইয়া তোরেদের বিদায় নিতে হয়েছে প্রথম রাউন্ড থেকেই। তবে তোরের বিশ্বাস এবার ঘুচতে যাচ্ছে শেষ আক্ষেপ। নিজেদের শেষ সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির জন্য দারুণ কিছুই বয়ে আনবে তার দল। প্রায় দেড় যুগ আগে শুরু হওয়া দুটি গৃহযুদ্ধ পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির অবকাঠামো প্রায় ভেঙ্গে দিয়েছে। এমন দেশ যেখানে বেঁচে থাকাই অনিশ্চিত সেখানে মানুষের ফুটবল দেখার সময় কোথায়? তবে আগামী মৌসুমে প্যারিস সেন্ট জার্মেইতে যোগ দেয়ার ঘোষণা দেয়া তোরের ধারণাটা ঠিক উল্টো। সর্বশেষ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটিকে ইংলিশ লিগ শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা পালন করা এই মিডফিল্ডারের বিশ্বাস, কেবল ফুটবলই পারে আইভরিয়ানদের মুখে হাসি ফোটাতে। আর, ব্রাজিল বিশ্বকাপ সেই সুযোগটাই দিচ্ছে দ্রগবা-কালু-তোরে-জোকোরাদের সোনালী প্রজন্মকে। তোরে বলছেন এবার নিজেদের প্রতিভা আর সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রমাণটাই দেবেন তার সতীর্থরা। দুর্দান্ত ফর্মে থেকেও ২০১২ সালের আফ্রিকান নেশন্স কাপের ফাইনালে জাম্বিয়ার বিরুদ্ধে হেরে যাওয়ার পরেও কেবল সতীর্থদের উপর এই বিশ্বাস থেকেই অবসরে যাননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন আপনি আমাদের স্কোয়াডের দিকে তাকাবেন তখন দেখবেন আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ দিদিয়ার দ্রগবা, সলোমন কালু, উইলফ্রাইড বনি, গারভিনহো এবং দিদিয়ার জোকোরার মত আইকন খেলোয়াড়দের। আমি বুঝতে পারি না কেন আমরা এ রকম একটি ট্রফি জিততে পারবো না। সব ভুলে গিয়ে এবার আমরা সেটাই করতে চাই। আশা করি অচিরেই আমরা এই স্বপ্নের বাস্তব রূপ দিতে পারব। যদিও শিরোপা জয়ের প্রস্তুতি নেয়ার মত পর্যাপ্ত সময় আমাদের মধ্যে অনেকেই পায়নি। তবে সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যখন আমরা শিরোপার দিকে হাত বাড়াব। আমাদের তরুণ প্রজন্ম সেভাবেই এগিয়ে আসছে।’ আর দ্রগবাদের সেই সাফল্যই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও শান্তিতে রাখতে পারবে জানিয়ে তোরে ইংলিশ দৈনিক মিররকে দেয়া এই সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এখানকার জনগণের কাছে ফুটবলই হচ্ছে জীবনের বড় একটি অংশ। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রত্যেকের জীবন ছিল দুর্বিষহ। অবস্থা ভাল ছিল না, জীবন ব্যবস্থা ছিল কঠিন, আর আমরা চাইতাম আমাদের এই জনগণের আনন্দ কিছুটা হলেও ফিরিয়ে দিতে। এবারও আমাদের ইচ্ছাটা তেমনই।’ কিন্তু ভালো কিছু উপহার দিতে দলীয় সমঝোতার বিকল্প নেই জানিয়ে সাবেক এই বার্সেলোনা তারকা বলেন, ‘সব সময় আমাদের দলের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খেলা। যাতে আইভরিকোস্টের জনগণকে খুশি করা যায় এবং তারা দেশকে নিয়ে গর্বিত হয়। আমরা তাদের বলতে চাই, আমাদের ফুটবল দেখে তোমরা উপভোগ কর। যুদ্ধের চিন্তা মন থেকে তাড়িয়ে দাও। এটিই হবে সবার জন্য মঙ্গল। পাশাপাশি এটা তোমাকে গর্বিত করবে।’ তবে এই সাফল্যের প্রচণ্ড ইচ্ছাই আইভরি কোস্টকে চাপে ফেলে দিতে পারে বলেও সতীর্থদের সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। ‘আপনি যখন দেশের জন্য খেলবেন, তখন সব সময় এটি আপনাকে চাপের মধ্যে রাখবে। কারণ আপনি জানেন এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভাল করার জন্য তুমি অবশ্যই মরিয়া হয়ে উঠবে। তবে ফুটবলে তুমি নিশ্চয় সব সময় জয়লাভ করতে পারবে না। সেখানে মাঝেমধ্যে তোমাকে ব্যর্থ হতে হবে। আমাদেরও এ রকম প্রচুর ব্যর্থতা রয়েছে। তবে এটি তখনই বেশি পীড়াদায়ক হয়, যখন সেটির প্রতি মানুষের চাহিদা অতিমাত্রায় বেড়ে যায়। এবং অনেক ক্ষেত্রে ফলাফলটা নেতিবাচকও হয়।’ বাসস/ মিরর।