বাগানেই আমে কার্বাইড

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাছ থেকে নামানোর পর বাগানেই আমে নিষিদ্ধ ক্যালসিয়াম কার্বাইড দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার জন্য বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা একে অপরকে দোষারোপ করলেও রাতের আঁধারে অপরিপক্ব আমে কার্বাইড দিয়ে ঝুড়িতে ভরে পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায়। সমপ্রতি রাজশাহীর পবা উপজেলার বিল ধরমপুর গ্রামের জনৈক রাজীবের বিক্রি করে দেয়া বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, গাছ থেকে গোপালভোগ ও গুটি আম নামানোর পর বাগানের মধ্যেই প্লাস্টিকের ঝুড়িতে তোলা হচ্ছে। তবে প্রতিটি ঝুড়িতে ২০ কেজি আমের মধ্যে কার্বাইডের তিনটি করে পুরিয়া রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যালসিয়াম কার্বাইডের প্রভাবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত আম পেকে যাবে। ওই পাকা আম স্তূপ করে রাখলেও ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত নষ্ট হবে না। জানা গেছে, আমে নিষিদ্ধ কেমিক্যাল মেশানো প্রতিরোধে ২০১১ সালের ২৬ মে বৃহত্তর রাজশাহীর বিভিন্ন আম বাগানে পুলিশ পাহারা বসানোর জন্য রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশনা এতোদিনেও কার্যকর হয়নি। তবে চলতি মৌসুমে পুলিশ ব্যাপক তত্পরতা শুরু করেছে বলে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মীর শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকালে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় হাজার হাজার আম বাগান রয়েছে। সব বাগানে পুলিশ পাহারা বসানোর মত জনবল তাদের নেই। তাই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারদের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল পার্টি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ২ জুন রেঞ্জের অধীন বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আমে নিষিদ্ধকেমিক্যাল ও ফরমালিন প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমে কেমিক্যাল ও ফরমালিন মেশানো প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। পুলিশের মোবাইল টিম কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়ির শব্দ পেয়েই জড়িতরা কেটে পড়ছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের বাগান এলাকার বাইরে গাড়ি রেখে সতর্কভাবে টহল দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া পুলিশকে কেমিক্যাল সেপ্র করার যন্ত্রপাতি জব্দ এবংতল্লাশীর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এবার রাজশাহীতে ১৪ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এ থেকে ২ লাখ ১২ হাজার ৭৬৭ মেট্রিক টন আম উত্পাদনের কথা।