সাতছড়ি পাহাড়ে মিলল আরো গোলাবারুদ
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৪, ২৩:০৮
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি পাহাড়ের মধ্যে আরো গোলাবারুদের সন্ধান পাওয়া গেছে। আগে যে পাহাড় থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছিল তার পাশের একটি পাহাড় থেকে গতকাল সোমবার সকালে আরো গোলাবারুদ পাওয়া যায়। র্যাবের গোয়েন্দারা এ পর্যন্ত ১৮টি কূপ খুঁড়েছে। এর মধ্যে আগে দুটি কূপ থেকে মিলিছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। আর গতকাল অন্য একটি কূপে পাওয়া গেছে ৬৩৩ রাউন্ড ছোট-বড় আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি, ৫৪টি বিমান বিধ্বংসী গোলা আর একটি মেশিনগানের ব্যারেল। র্যাবের তল্লাশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানা শামীনুর রহমান। তিনি আরো বলেন, সবগুলো পাহাড়েই র্যাবের তল্লাশী অভিযান চলবে।
গতকাল সকাল ৭টার দিকে র্যাব অভিযান চালায় ‘টিপরা’ বস্তির ৩’শ গজ দূরে অন্য একটি পাহাড়ে। এসময় র্যাব-৯ এর কমান্ডিং অফিসার কমান্ডার মুক্তি মাহমুদ খান উপস্থিত ছিলেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি র্যাব। ওই পাহাড়ের উপর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পরিত্যক্ত ঘর ও বালির বস্তা দিয়ে তৈরি নিরাপত্তা বাংকারের আলামতও পাওয়া গেছে। ওই পাহাড়ের পূর্বদিকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বহু পরিত্যক্ত বাড়িঘর পাওয়া গেছে।
শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের কমান্ডার শামীনুর রহমান বলেন, ওই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ব্যবহূত আসবাবপত্র, যোগাযোগের জন্য পুরোনো ওয়াকি-টকি, কম্পিউটারের প্রিন্টার, কী বোর্ড, ব্যায়ামের সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণার্থী ঘর, গৃহপালিত কুকুর, খাবার জন্য বিশাল রান্নাঘরসহ বিলাসবহুল সকল জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। গতকাল সরেজমিন ওই পাহাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, রান্নাঘরের মধ্যে শাক-সবজি পড়ে রয়েছে। এগুলো দেখা মনে হয় অতি সম্প্রতি তারা এখানে অবস্থান করেছে। রান্না করে খেয়েছে। র্যাবের অভিযান শুরু পর তারা সটকে পড়েছে।
এর আগে র্যাব ওই পাহাড় থেকে চারটি মেশিনগান, একটি রকেট লঞ্চার, মেশিনগানের পাঁচটি ব্যারেল, ২২২টি কামানের গোলা ও তা ছোড়ার কাজে ব্যবহারের ২৪৮টি চার্জ এবং বিভিন্ন ধরনের ২৫ হাজার গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে পৃথক দুটি মামলা হয়। এদিকে আগে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ঢাকা সেন্ট্রাল অ্যামুনিশন ডিপো ও সেন্ট্রাল অর্ডিনেন্স ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। এসব আগ্নেয়াস্ত্রের উত্স জানতে চাইলে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, এ নিয়ে তদন্ত চলছে। শেষ হলেই জানা যাবে। সূত্র জানিয়েছে, যে স্থানটিতে এই গোলাবারুদ পাওয়া গেছে, তা এক সময় অল ত্রিপুরা টাইগার্স ফোর্সের (এটিটিএফ) আস্তানা ছিল বলে মনে করা হয়। ত্রিপুরার এই বিদ্রোহী দলটি এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে।