সমস্যা চিহ্নিত করতে মাঠে নেমেছে ইসি
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৪, ২৩:০৮
চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের সমস্যা চিহ্নিত করতে মাঠে নেমেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতিবার হালনাগাদে টার্গেটের চেয়ে বেশি ভোটার হলেও এবার কেন ভোটার কম হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটি। পাশাপাশি সঠিকভাবে ভোটার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না তা দেখভাল করতে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার সমন্বয় কমিটি কাজ করছে। সীমান্তবর্তী এলাকার জন্য বিশেষ কমিটি কাজ করছে বলে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি হালনাগাদ কার্যক্রমের যাবতীয় বিষয় দেখভাল করছে। টার্গেটের চেয়ে ভোটার কম হতে পারে। তবে মাঠ পর্যায়ে প্রথম ধাপে যে ভোটার নিবন্ধন হয়েছে তা অস্বাভাবিক নয়। ইসির মাঠ পর্যায়ের পাঠানো প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৮১ উপজেলায় নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ। গত ১৫ মে’তে শুরু হওয়া তথ্য সংগ্রহে নতুন ভোটার করার টার্গেট ছিল ৫ শতাংশ। কিন্তু অনেক স্থানে এ টার্গেটের অর্ধেকও নতুন ভোটার পাওয়া যায়নি। নতুন ভোটার কম হওয়ায় তাত্ক্ষণিক প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। তবে ঠিক কি কারণে নতুন প্রজন্ম ভোটার হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে তার কারণ জানাতে কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। পাশাপাশি সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে কি না তা দেখভাল করতে বলা হয়েছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির আওতায় গঠন করা হয়েছে ১০টি সাব-কমিটি। এসব সাব-কমিটি অঞ্চলভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করে কমিশনে রিপোর্ট পেশ করবে। পাশাপাশি হালনাগাদে মাঠ পর্যায়ে যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখবে এ কমিটি।
ইসির উপ-সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদেরকে এসব সাব-কমিটির প্রধান করা হয়েছে। হালনাগাদে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে কিনা তা তারা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির সময় স্কুল সনদ/প্রশংসাপত্র/এসএসসি সনদের সঠিকতা শুদ্ধতা করা হয়েছে কিনা, ভোটারদের জন্ম সনদ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনে রেজিস্টারে রক্ষিত আছে কিনা, বিদেশে অবস্থানরতদের ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহকারীগণ মূল পাসপোর্ট বা উপযুক্ত সনদ দেখে সত্যতা যাচাই করা হয়েছে কিনা, সুপারভাইজরগণ দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে সংযুক্ত দালিলিক প্রমাণাদিসহ পূরণকৃত ফরম যাচাই করেছেন কিনা, যাদের পিতা-মাতা, স্বামী/স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর পূরণ করা হচ্ছে না তাদের ক্ষেত্রে জেলা/উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে রক্ষিত ভোটার তালিকা হতে নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে কিনা, তথ্য সংগ্রহকারীর রেজিস্টারে নাম না থাকলে সরাসরি কোন ভোটার নিবন্ধন কেন্দ্রে এসে ভোটার হতে পারেন তা নিশ্চিত হচ্ছে কিনা, থানা/উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রেজিস্ট্রেশন অফিসারগণ দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে সংযুক্ত দালিলিক প্রমাণাদিসহ পূরণকৃত ফরম যাচাই করছে কিনা, জেলা নির্বাচন অফিসার ও রেজিস্ট্রেশন অফিসারগণ দ্বৈবচয়ন ভিত্তিতে সংযুক্ত দালিলিক প্রমাণাদিসহ পূরণকৃত ফরম যাচাই করছে কিনা, জেলা নির্বাচন অফিসার ও রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌর ও সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর যাচাইয়ের নিমিত্ত রেজিস্ট্রারসহ একজন প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে কিনা, নিবন্ধনের পর (এএফআইএস) আঙ্গুলের ছাপ ‘ক্রস ম্যাচিংয়ের’ সময় যদি দ্বৈত ভোটার চিহ্নিত হয় সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এ বিষয়ে সকলকে অবহিত করা হচ্ছে কিনা এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে কমিশন।
প্রাথমিকভাবে ভোটার বৃদ্ধি কম হওয়ার কারণ হিসাবে একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, ধান কাটার মৌসুমের কারণে মাঠ পর্যায়ের ভোটারযোগ্যরা বাড়িতে ছিলেন না। এজন্য তথ্য সংগ্রহকারীরা কাঙ্খিত ভোটার নিবন্ধন করাতে পারেনি।
১৫ মে সারাদেশে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ। প্রথম ধাপে ১৮১ উপজেলার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ২১৮ উপজেলার তথ্য সংগ্রহ হবে ১৫ থেকে ২৪ জুন এবং রেজিস্ট্রেশন ১৮ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর এবং শেষ ধাপের ১১৫ উপজেলায় ভোটারের তথ্য সংগ্রহ হবে ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ নভেম্বর।