করাচি বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২৮

করাচি বিমানবন্দরে জঙ্গি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮। এদের মধ্যে ১০ জন জঙ্গিও রয়েছে বলে সেনাবাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে। রবিবার রাত ১১ টা নাগাদ পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায় ১০ জন সশস্ত্র জঙ্গি। গতকাল রাত থেকে বিমানবন্দরটিতে আবার কার্যক্রম শুরু হয়। খবর বিবিসি, ডন ও আনন্দবাজারের। প্রায় ৬ ঘণ্টা গুলি বিনিময়ের পর বিমানবন্দর নিরাপত্তা বাহিনীর (এএসএফ) কর্মীরা তাদের কোণঠাসা করে ফেলেন। এর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ওই জঙ্গিরা। এএসএফ’র সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে তারা প্রত্যেকে নিহত হয় বলে ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশন এর এক মুখপাত্র দাবি করেন। তিনি আরও জানান, জঙ্গিরা কোনও বিমান বা বিমানবন্দর চত্বরের কোনও সম্পত্তি নষ্ট করতে পারেনি। জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুরনো টার্মিনাল আক্রান্ত হওয়ার পর পরই কাছাকাছির মালির ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেনা বাহিনীকে তলব করা হয়। সেনার সঙ্গে এএসএফ কম্যান্ডো, আধা সেনা রেঞ্জার্স এবং পুলিশ এয়ারপোর্ট চত্বরকে জঙ্গিমুক্ত করতে যৌথ ভাবে অভিযান চালায়। জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অত্যাধুনিক মেশিনগান এবং রকেট লঞ্চার। এই আক্রমণের ঘটনায় করাচি বিমানবন্দর প্রায় ৬ ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়। গ্রেনেড ছুড়তে ছুড়তে জঙ্গিরা হ্যাঙ্গার এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের আড়াল থেকে আক্রমণ চালাতে থাকে। আগুন এবং গোলাগুলির ধোঁয়ায় ভরে ওঠে রাতের রানওয়ে। সেই সময় বিমানবন্দরের সমস্ত উড়ানের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বার বারই গুলি এবং বিস্ফোরণের আওয়াজে কেঁপে ওঠে করাচি বিমানবন্দর চত্বর। সোমবার এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। টিটিপি’র মুখপাত্র শাহিদুল্লা শাহিদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁদের সংগঠন যে এখনও সক্রিয়, সরকারকে সেই বার্তা দিতেই এই আক্রমণ। সমপ্রতি টিটিপি প্রধান হাকিমুল্লা মেহসুদ মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। সে ঘটনার পাশাপাশি এ দিন নিরীহ গ্রামবাসীদের বোমা দিয়ে মারার প্রতিবাদও করেছেন শাহিদ। সিন্ধু প্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাগীর আহমেদ জানিয়েছেন, এই আক্রমণে জঙ্গি ছাড়াও ১৮ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন এএসএফ বাহিনীর কর্মী, ২ জন রেঞ্জার, ১ জন পুলিশ অফিসার এবং পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ৪ জন কর্মী। ঘটনায় প্রায় ২৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাগীর।