চট্টগ্রামে ফরমালিন আতংক মৌসুমী ফল ব্যবসায় মন্দা

নগরীতে মৌসুমী ফলে সয়লাব। কিন্তু বেচা-বিক্রি কম। জনমনে ফরমালিন নিয়ে চরম আতংক। মৌসুমী প্রতিটি ফলই পচনশীল। তবে বাজারের ফল দীর্ঘদিন রাখলেও পচন ধরে না, পোকা মাকড়ের উপস্থিতি নেই। মানুষ ভরা মৌসুমে রসালো ফল কেনা থেকে বিরত রয়েছেন। বিক্রেতারা জানান, ফরমালিনের ব্যবহার নিয়ে ক্রেতারা আতংকে রয়েছেন। ফল কিনতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রেতারা। কেউ নিরূপায় হয়ে খুব কম পরিমাণ ফল একাধিকবার যাচাই-বাছাই করে কিনছেন। নগরীতে ফলের পাইকারি আড়ত, বিভিন্ন বাজার ও অলি-গলিতে মৌসুমী ফলের বাজার বসেছে। বিক্রেতারা ফল নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে রয়েছেন। আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় দোকান ভাড়াসহ দৈনন্দিন খরচ মেটাতে লোকসান দিতে হচ্ছে তাদের। প্রতিটি ফলের প্রতি মানুষের সন্দেহ। কি মেশানো হয়েছে এসব ফলে। আম পেকে হলুদ বর্ণের হয়ে গেছে কিন্তু টিপলে শক্ত। চট্টগ্রাম মহানগরীতে বৃহত্ দু’টি ফলের পাইকারি বাজার রয়েছে। একটি কদমতলী বিআরটিসি মার্কেট ও অপরটি ফিরিঙ্গীবাজার এলাকায়। আমদানি করা ও দেশে উত্পাদিত সকল ধরনের ফল এখানে বিক্রি হয়ে থাকে। এই দু’টি পাইকারি বাজারে কয়েকশ’ পাইকারি আড়ত রয়েছে। বিআরটিসি মার্কেটে আমদানি করা ফল বেশি বিক্রি হয়। চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মো. নাজিম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কন্টেইনার ফল আমদানি হচ্ছে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গ নিরোধ কীটতত্ত্ববিদ কর্মকর্তা পরীক্ষা করে বক্সের উপরে ‘খাবার উপযোগী’ লিখে খালাস করছেন। তবে বন্দরে ফরমালিন পরীক্ষা করার কোন মেশিন নেই। ফল প্যাকেট করা অবস্থায় আমরা পাইকারি দরে বিক্রি করছি। এতে ফরমালিন মেশানোর সুযোগ নেই।’ বিএসটিআই কর্মকর্তারা জানান, তারা ১৫৫টি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণসহ দেখভাল করে থাকেন। মৌসুমী ফলের মান যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব বিএসটিআই’র নয়। বিএসটিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ম্যাট) শওকত ওসমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘ফলের মান যাচাইয়ের জন্য বিএসটিআই’র প্রতি আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। এটা আমাদের কাজের পরিধির মধ্যে পড়ে না। তবুও আদালতের নির্দেশে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’ গতকাল বিএসটিআই’র তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নগরীতে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। তারা নগরীর চৌমুহনী ও মুরাদপুর এলাকায় দু’টি ফলের দোকানে আঙ্গুর ও আমের উপর পরীক্ষা করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জামাল হোসেন বলেন, ‘আমদানি করা লাল আঙ্গুর ও ল্যাংরা আমে ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাদের অর্থদণ্ড করেছি। তবে ফরমালিনের উপস্থিতি ব্যাপক বলা যাবে না। আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ জেলা প্রশাসন জানায়, জনস্বার্থে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৬টি সংস্থাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুত্, বিএসটিআই, মত্স্য, ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া শিরিন জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে তারা নগরীর বিভিন্ন ফলের দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।