শচীন দেব বর্মনের গান শত বছরেও অম্লান
প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৪, ২১:২৫
শচীন দেব বর্মণ স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের কুমিল্লায় জন্ম নেয়া শচীন দেব বর্মণ বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় বাংলা গানের কিংবদন্তীতুল্য ও জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। প্রায় একশ’ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে তাঁর গানের আবেদন কিছুমাত্র কমেনি।’ শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের ব্যবস্থাপনায় মঙ্গলবার একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে হয়ে গেল উপমহাদেশের কিংবদন্তীতুল্য এ শিল্পীর স্মরণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শচীন দেব বর্মণ শুধু সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নয়, গীতিকার হিসাবেও ছিলেন সার্থক। তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। শচীন দেব বর্মণের জন্ম কুমিল্লায়, ত্রিপুরার চন্দ্রবংশীয় মানিক্য রাজপরিবারের সন্তান তিনি। বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেব বর্মণের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন। বাবা ছিলেন একজন সেতারবাদক এবং ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী। ১৯০৬ সালের পহেলা অক্টোবর তিনি কুমিল্লায় জন্ম নেন। তাঁর মৃত্যু হয় ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর।
গতকালের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. করুণাময় গোস্বামী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দীন।
আলোচনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শচীন দেব বর্মণের জনপ্রিয় সব গান গেয়ে শোনান শিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়, অনুপমা মুক্তি, সঞ্জয় রায়, ইয়াসমিন আলী, সন্দীপন ও আবিদা রহমান সেতু। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে ঢাকার সাংস্কৃতিক দল এবং দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমির রেপার্টরী দল।
১৯তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী শুরু আজ
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী ‘১৯তম নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী ২০১৪’ শুরু হচ্ছে আজ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা গ্যালারিতে দুপুরে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি সচিব রণজিত্ কুমার বিশ্বাস, বরেণ্য শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরী।
প্রদর্শনীতে ১৬৬ জন শিল্পীর ১৯৭টি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হবে। এর মধ্য থেকে ৮টি শিল্পকর্ম পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। পুরস্কারগুলোর মধ্যে ১টি নবীন চারুশিল্পী পুরস্কার, ৩টি মাধ্যম শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ও ৪টি সম্মানসূচক পুরস্কার রয়েছে। প্রদর্শনী চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এ উপলক্ষে গতকাল দুপুরে একাডেমির চারুকলা বিভাগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা জানান একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী। দেশের নবীন শিল্পীদের কাছ থেকে শিল্পকর্মের আলোকচিত্র আহ্বান করা হয়। এ আহ্বানের প্রেক্ষিতে সারাদেশ থেকে ৫২৮ জন শিল্পীর ১২০৭ টি শিল্পকর্ম জমা হয়। পরবর্তী সময়ে তা যাচাই-বাছাই করে ১৬৬ জন শিল্পীর ১৯৭টি শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর জন্য চূড়ান্ত করা হয়।