ফেসবুক লাইভে অর্ডার দরজায় হাজির পণ্য

হ্যালো গাইস। আমি আনিকা রহমান। কেমন আছো সবাই? আবারো এসেছি ফেসবুক লাইভে। এবার দেখাব আমাদের কাছে থাকা নতুন কিছু ঈদ কালেকশন। এই যে দেখ, লাল থ্রি-পিসটা আমি পরে আছি। এটা এবার নতুন এসেছে। গলায়, হাতায় কতো সুন্দর কাজ করা। এরকম বিভিন্ন রঙের থ্রি পিস, টু-পিস এবং ওয়ান পিস আছে আমাদের কাছে। এর সঙ্গে মিলিয়ে সালোয়ার, ওড়নাও আছে। এটার কোড...। দাম...। তোমাদের পছন্দ হলে এখনই অর্ডার দাও। প্রোডাক্টের কোড নাম্বার, ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার লিখে ইনবক্স করো। আর যারা লাইভটা শেয়ার করবে তাদের জন্য ডেলিভারি চার্জ ফ্রি। ‘নিউ কালেকশন’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে এভাবেই লাইভে কথা বলতে দেখা গেছে ওই তরুণীকে। তিনি একজন তরুণ উদ্যোক্তা। নেই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা ই-কমার্স সাইট। তবুও থেমে নেই তার ব্যবসা। ঘরে বসেই ফেসবুকে লাইভে কেনা-বেচা করছেন। কখনো নিজে পোশাক পরে, আবার কখনো গায়ে জড়িয়ে ক্রেতাদের দেখাচ্ছেন। পাশাপাশি উত্তর দিচ্ছেন ক্রেতাদের নানা প্রশ্নের। ক্রেতারা পণ্য অর্ডার দিলে পৌঁছে দিচ্ছেন তাদের দরজায়।

সিকিউরিটি বাজার বিডি নামক একটি পেজ থেকে নিশাত আফরোজ নামক এক তরুণী লাইভে এসে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য দেখাচ্ছেন। বলছেন পণ্যের বিস্তারিত এবং দাম। ঈদকে সামনে রেখে ফেসবুক পেজে পণ্য বিক্রির ধুমও পড়েছে।

কম পুঁজিতে যারা ব্যবসা শুরু করছেন তারা ফেসবুক লাইভ বিপণনের সহজ প্লাটফর্ম মনে করছেন। চাল-ডাল থেকে শুরু করে জামা-কাপড়, প্রসাধনী, জুয়েলারি, গৃহস্থালি তৈজসপত্র এমনকি চিকিত্সা পেশায় জড়িতরাও সহজে বাড়তি আয়ের আশায় পণ্যের বিজ্ঞাপন দিতে ফেসবুক লাইভে আসছেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী নারীরাও লাইভে এসে পণ্য বিক্রি করছেন। শ্রম ও সময় বাঁচানো এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে দিন দিন ক্রেতারাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ই-কমার্স সাইটগুলোতে ক্রেতারা পণ্যের ছবি দেখে অর্ডার দিতে পারেন। তবে ফেসবুকের লাইভ স্ট্রিমিং বা সরাসরি সমপ্রচারে ক্রেতারা পণ্য দেখে মান যাচাই করে অর্ডার করতে পারেন। এজন্য ক্রেতারা লাইভ দেখে পণ্য ক্রয়ের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। এমন ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে ক্রেতারা যেমন তার পছন্দের পোশাকটি খুঁজে নিতে পারছেন তেমনি ফেসবুক লাইভে আসা তরুণীও সুযোগ পাচ্ছেন বাড়তি অর্থ আয়ের।

নিজের সামনে মোবাইল ফোন রেখে ফেসবুক লাইভে পণ্য দেখাচ্ছেন সুমাইয়া তাবাচ্ছুম। ওই তরুণী জানালেন, তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান কিংবা কম পুঁজিতেও ব্যবসা করা যায়। তার পেজে এখন প্রায় ৫০ হাজারের মতো লাইক। দিনে অন্তত দু্ইবার লাইভে আসেন। তার লাইভ দেখে ক্রেতারা পণ্যের কোড নাম্বার লিখে অর্ডার দেন। কারণ ছবি দেখে প্রোডাক্ট কিনে অনেক সময় ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হন। লাইভে দেখে পণ্যেও মান যাচাই স্বাচ্ছন্দ্যে অর্ডার করতে পারেন। অর্ডার কনফার্ম হলে ক্রেতার দরজায় পৌঁছে দেন প্রোডাক্ট। ক্রেতার কিছু জানার থাকলে তারা কমেন্ট বক্সে কিংবা ইনবক্সে জিজ্ঞেস করছেন, সেগুলোর উত্তর দিচ্ছেন একই সঙ্গে।

ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ফেসবুক লাইভে ঝুঁকছে। তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে পেজ থেকে লাইভ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য আলাদা লোকও আছে তাদের। ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার ফেসবুক লাইভে এসে কেউ কেউ পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।

ফেসবুকে লাইভ দিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে নিজের হাত খরচ নিজেই চালান রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম। ওই তরুণী জানালেন, মৌচাকের একটি পোশাক বিপণিতে সপ্তাহে চারদিন লাইভে আসেন। দোকানের মধ্যে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনের সামনে পণ্য সম্পর্কে তুলে ধরেন। ফেসবুক লাইভের কারণে এখন তিনি অনেক ক্রেতার কাছে পরিচিত। এতে তার মাসে প্রায় ৭-৮ হাজার টাকা আয় হয়।