স্কোলারির ভরসা পুরনো রেসিপি

নিজেদের মাঠে এবার বিশ্বকাপ জিততে ২০০২ সালের কৌশল অবলম্বন করতে চান ব্রাজিলের কোচ লুই ফেলিপ স্কোলারি। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাফল্যের মূলমন্ত্র ছিল প্রেরণা ও সঙ্গীত! স্কোলারির ওই কৌশলের ওপর ভর করেই দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে পঞ্চমবার বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। এবারের বিশ্বকাপেও ওই কৌশলে পরিবর্তন আনতে চান না তিনি। এবার বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রাজিল দলের বর্তমান কৌশলে এরই মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হলেও সাফল্যের ‘ম্যাজিক্যাল ফর্মুলা’ প্রেরণা এবং সঙ্গীতের পুনরাবৃত্তি করতে চায় ব্রাজিল। টুর্নামেন্ট চলাকালে সাও পাওলোর টেরাসপলিসে স্কোলারির দুর্গে সপ্তাহে দুই রাত প্রেরণামূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। যেমনটা ২০০২ সালের বিশ্বকাপেও তার দলের সাফল্যের অন্যতম দাওয়াই ছিল। দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান আসরের মতো নিজেদের অনুপ্রাণিত করতে এবারও অনুপ্রেরণামূলক গানকে প্রাধান্য দিচ্ছে ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ জেতাতে স্যালেকাওদের অনুপ্রাণিত করতে এরই মধ্যে সাম্বা গ্রুপ রেভেলাকাও দারুণ একটি গান তৈরি করেছেন। গানটি নিয়ে ব্রাজিল দলের রাইট ব্যাক দানি আলভেস জানিয়েছেন, ‘গানের কথাগুলো অনেক ভাল হয়েছে। আপনারা জানতে পারেন।’ ‘তিনিই ঈশ্বর, যিনি তারকাদের জ্বলে ওঠতে নির্দেশ দেন’ অথবা ‘যারা জেতার জন্যই জন্ম নিয়েছে তাদের কেউ ঠেকাতে পারবে না’— গানের এসব পংক্তিগুলোতে নেইমারদের অনেক উজ্জীবিত করার রসদই প্রকাশ করে। এসব পংক্তি কেবল খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসীই করবে না, কঠিন মুহূর্তগুলোতে দুঃখ এড়াতেও সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের পছন্দ করা এবারের গানটি ২০০২ সালের বিশ্বকাপের মতোই। বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলকে অনুপ্রাণিত করার ওই গানটির লাইন ছিল এমন— ‘কোয়েলা লা ভিদা মি কন্দুজকা (জীবনই আমার পথ নির্দেশক)।’ গানটি লিখেছিলেন ব্রাজিলিয়ান গায়ক ও গীতিকার জেকা প্যাগোনদিনহো। স্কোলারির দলের বিশ্বাস গানের প্রেরণামূলক এসব স্তবক শিরোপা জয়ের পথে তাড়িত করবে। উদাহরণস্বরূপ সোমবার রাতে স্কোলারির শীষ্যরা ব্রাজিলিয়ান ব্যবসায়ী, প্রফেসর ও লেখক কার্লোস আলবার্তো জুলিওকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ‘দলীয় মেধার দ্বারাই ব্যক্তিগত মেধা অধিকতর ভাল কাজে লাগানো যায়’—খেলোয়াড়দের উদ্দেশে এমনটাই জুলিও বলেছেন বলে জানান ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের মুখপাত্র রোদ্রিগো পেইরা। গত সপ্তাহেও স্কোলারির শীষ্যরা ব্রাজিল শিবিরে সাবেক কোচ রুবেনস মিনেলিকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এসবের মধ্যদিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রেরণামূলক বার্তা দেয়া হচ্ছে। স্কোলারি বলেছেন, ‘তিনি (রুবেনস) আমাদের ৩০টা দিন উত্সর্গ করতে বলেছেন। আমরা যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারি তাহলে পরবর্তী এক হাজার ৪৩০ দিন অর্থাত্ আগামী বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত আমরা এটা উদযাপন করতে পারবো।’ ২০০২ সালে বিশ্বকাপেও প্রেরণামূলক কৌশল করে সফল হয়েছিলেন স্কোলারি। ওই বিশ্বকাপে তিনি সান টিজুর লেখা গান ‘দ্য আর্ট অব ওয়ার’ থেকে খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা করেছেন। বিশ্বকাপ চলাকালে এই গান খেলোয়াড়দের রুমে রুমে বাজতো। স্কোলারির ওই কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে অনেকের মধ্যেই সংশয় ছিল; কিন্তু চূড়ান্ত দ্বৈরথে ২-০ গোলে জার্মানিকে হারিয়ে ঠিকই বিশ্বকাপের ট্রফি ঘরে তুলেছিল স্কোলারির দল। মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বকাপের ফাইনাল। এ দিনই বুঝা যাবে স্কোলারির ‘ম্যাজিক্যাল ফর্মুলা’ সফল না ব্যর্থ।