‘নেইমারই হেক্সা জেতাবে ’

সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরাদের একেবারে সংক্ষিপ্ততম তালিকায় আছেন। দুটি বিশ্বকাপ জয়ী দলে ছিলেন, একটি একেবারে নিজে জিতিয়েছেন, আরেকটি ফাইনালে তুলেছেন এবং এখনও বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক এই রোনালদো। এবার বিশ্বকাপের আয়োজক কমিটির পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে থাকা রোনালদো সবসময়ই উত্তরসূরীদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আবারও বললেন, নেইমারের সাফল্য নিয়ে সন্দেহ নেই তার। একইসঙ্গে প্রশংসায় ভাসালো বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদে তার দুই উত্তরসূরী মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। তবে সব কথার এক কথা—বিশ্বকাপটা দেখতে চান নেইমারদেরই হাতে— বিশ্বকাপে আপনার গোলসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবার থেকে আর মাত্র এক গোল দূরে রয়েছেন ক্লোসা। আপনি কী বিষয়টি নিয়ে দুঃখিত? কেন! রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙ্গার জন্য। আমি জানি আমার রেকর্ডটা এখন আর সুরক্ষিত নয়। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। ক্লোসা এর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। গত তিনটি বিশ্বকাপেই সে দারুণ খেলছে। যদি সে এটা করতে পারে তবে অবশ্যই আমি তাকে অভিনন্দন জানাবো। আপনি তো এই মাইলফলক স্পর্শ করতে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। আর ক্লোসা তো এবার নিয়ে চারটি খেলবেন। তাতে কী ক্লোসার গুরুত্ব একটু কম থাকবে? আমার যদি ভুল না হয়, তবে জার্মান কিংবদন্তী জার্ড মুলার ১৪ গোল করতে দুটি বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। আমি তিনটি খেলে ১৫ গোল করেছি। তাতে কী আমার গুরুত্ব কমেছে? ক্লোসা চারটি খেলে আরেকটি মাইলফলক সৃষ্টি করবে। আমি মনে করি এটা কোন সমস্যা নয়। এবার ব্রাজিলের সুযোগ কেমন? স্বাগতিক হিসাবে অন্য যেকোন দলের থেকে ব্রাজিল এগিয়ে থাকবে, এটা বাড়তি একটি সুবিধাও দেবে। ঘরের মাঠে, স্টেডিয়াম ভর্তি সমর্থকদের উপস্থিতিতে খেলার আনন্দই আলাদা। কিন্তু একইসাথে তাদের প্রত্যাশার চাপ কোন কোন ক্ষেত্রে অসুবিধা হয়েও দেখা দিতে পারে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সমর্থকরা সব জানে এবং তাদের ফুটবল জ্ঞান নিয়ে তারা গর্বিত। শুধু একটি বিষয়ে নিজের মতামত দিয়ে থেমে থাকার মত সমর্থক তারা নন। এটা একটা অনেক বড় চাপ। তবে আমি বিশ্বাস করি স্কলারি এগুলো সামলে নিজের দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। হেক্সা জয়ে নেইমারই কি ব্রাজিলের নায়ক হয়ে উঠবেন? যদি সে পুরোপুরি ফিট থাকে তবে অবশ্যই পারবে। সেলেসাওদের জার্সি গায়ে এখন পর্যন্ত ৫০টিরও কম ম্যাচ খেলে সে ৩০টি গোল করে ফেলেছে। মাত্র ২২ বছর বয়সী একজন খেলোয়াড়ের জন্য এটা অসাধারণ রেকর্ড। আমি তার সৌভাগ্য কামনা করছি, সে যাতে পুরো ফর্মে থাকে যেমনটি কনফেডারেশন কাপে দেখা গেছে। আর সে ভাল খেললে ব্রাজিলের সাফল্য আসতে বাধ্য। আপনি তো লিয়নেল মেসিরও একজন ভক্ত... মেসির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমি তাকে বার্সেলোনায় খেলতে দেখেছি এবং রোনালদিনহোর সাথে তার সম্পর্কে আলোচনা করেছি। রোনালদিনহো ওকে খুব ভালোবাসে এবং প্রশংসা করে। এরপর আমি যখন তার খেলা দেখেছি তখন রোনালদিনহোর কথাগুলো মনে পড়েছে। মেসি সত্যিকার অর্থেই একজন ভিন্ন মাত্রার জাত খেলোয়াড়। টানা চারটি ব্যালন ডি’অর জেতা একজন খেলোয়াড়ের জন্য অসাধারণ অর্জনই বটে। সমালোচকরা বলে থাকেন ফুটবল কিংবদন্তী হতে গেলে বিশ্বকাপ জিততেই হবে। মেসি এই চাপে আছেন এখন? বিশ্বকাপ জেতা ওর পক্ষে সেটা সম্ভব। তার বয়স মাত্র ২৬ এবং আরও অনেকদিন খেলবে সে। কিন্তু গ্রেট হতে গেলে বিশ্বকাপ জিততে হবে, এটা আমি ঠিক মনে করি না। ফুটবল ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে এমন অনেক গ্রেট আছেন যাদের বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড নেই। কিন্তু তারা সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের তালিকায় ইতিহাসের পাতায় ঢুকে গেছেন। কেউ যদি বিশ্বকাপ জিতে তবে তার স্ট্যাটাসটা অনেক উপরে উঠে যায়। কিন্তু না জিতলেও তার সেরার খেতাবটা নষ্ট হয়ে যায় না। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সম্পর্কে আপনার মতামত কি? সে আমাদের (রিয়ালকে) যা দিয়েছে তা গর্ব করার মতই। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে রিয়ালের হয়ে লা ডেসিমা জয়ের রেকর্ড তার রয়েছে। এবার সে যখন ব্যালন ডি’অর লাভ করে আমি সত্যিকার অর্থেই দারুণ খুশি হয়েছিলাম। এটা তার প্রাপ্য ছিল। পর্তুগালের হয়েও সে ভাল খেলছে।