রাজউক কর্মকর্তারা অবৈধ লেনদেনে জড়িত
প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৪, ২২:৫৫
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কর্মকর্তারা অবৈধ লেনদেনে জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছেন খোদ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীই টেবিলের নিচ দিয়ে উঁচু দরের লেনদেন করেন।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এ অভিযোগ করেন। রাজউক নতুন করে আর কোন প্লটের প্রকল্প শুরু করবে না জানিয়ে মন্ত্রী সেমিনারে বলেন, এখন থেকে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সামর্থ্য বিবেচনায় অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। সেখানে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রেখে উঁচু (হাইরাইজ) ভবন তৈরি করা হবে।
‘সুপরিকল্পিত নগরায়ন ও উন্নয়ন : সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) বেসরকারি খাতের অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক ঐ সেমিনারের আয়োজন করে ‘ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ’ (আইবিএফবি)। সংগঠনের সভাপতি হাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব সোহেল আহমেদ চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, রাজউকের অনেক দোষত্রুটি আছে। একজন জমির নামজারি করার জন্য তিন বছর যাবত্ সেখানে ঘুরেছেন। কিন্তু পারেননি। আমি জানার পর এক ঘন্টার মধ্যে তা সমাধান করি। এখন থেকে প্রয়োজনে নিজে ভবন পরিদর্শনে বের হবো। এমনকি প্রয়োজনে আমার কার্যালয় রাজউকে স্থানান্তর করা হবে। খুব সহসাই রাজউকে অনেক পরিবর্তন হবে।
বিগত দিনে রাজউকের নেয়া ঝিলমিল, উত্তরা ও পূর্বাচল প্লট প্রকল্প এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে আর কোন প্লটের প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না। ঐ তিন প্রকল্পে ১০ হাজার, ২০ হাজার ও ৬২ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে একটি প্রকল্পের কাজ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে মালয়েশিয়া। এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক দরপত্র অনুযায়ী কার্যাদেশ দেয়া হবে।
এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট কাটাতে ১০ হাজার নতুন অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে পুরনো ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করেও অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেয়া হবে বলে তিনি জানান। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ জানান, তেজগাঁও-হাতিরঝিল নিয়ে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র নির্মাণ এবং শান্তিনগর থেকে ঝিলমিল প্রকল্প পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার পিপিপির মাধ্যমে নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এটি উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর আশপাশের এলাকা ছাড়াও দূররর্তী এলাকায় পরিকল্পিত আবাসিক নগরী গড়ে তোলা হবে। এ জন্য শিবচরে ৮০ একর এবং গোপালগঞ্জে ২০ একর জমি নেয়া হয়েছে। সেখানে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থাকবে।
মূল প্রবন্ধে সোহেল আহমেদ চৌধুরী ঢাকার আশপাশে বিশেষত পূর্বাচলে আরো স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলা ছাড়াও যমুনা অ্যাক্সেস সড়কের পাশে, চর জানাজাত এবং আড়িয়ল বিলে উপ-শহর গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
রাজউকের চেয়ারম্যান জি এম জয়নাল আবেদীন বলেন, রাজউকে নতুন জনবল নিয়োগ হচ্ছে। এখন থেকে দীর্ঘসূত্রিতা কেটে যাবে।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে আইবিএফবি’র সাবেক সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীসহ নগর পরিকল্পনাবিদরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা রাজউকের প্লট প্রকল্পের সমালোচনা করেন। তারা বলেন, সরকার কেন ব্যবসা করতে আসবে?