চট্টগ্রামে টিসিবির নিম্নমানের চিনি সরবরাহের অভিযোগ

চট্টগ্রামে টিসিবি’র বিরুদ্ধে তিন বছরের পুরনো ও নিম্নমানের চিনি সরবরাহের অভিযোগ করেছেন ডিলাররা। ক্রেতারা কিনছেন না এসব নিম্নমানের লাল রঙের চিনি। তাই চিনি বদলানো না হলে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি করবে না বলে ডিলাররা জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষকে। খেজুর এখনো ডিলারদের দেয়া হয়নি। তবে টিসিবি’র কর্মকর্তাদের দাবি, চিনি লাল রঙের হলেও গুণগতমান ভালো। রমজানের আগ মুহূর্তে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে কয়েকটি ভোগ্যপণ্যের দাম হুহু করে বেড়েই চলেছে। একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ হঠাত্ কমে গেছে। জানা যায়, টিসিবি’র সরবরাহ করা চিনি নিয়ে সকল ডিলার আপত্তি করেছে। ভারতীয় এসব চিনি প্রায় ২/৩ বছর আগে আমদানি করা হয়েছে। চিনির রং লালচে ও অত্যন্ত নিম্নমানের। ডিলাররা এসব চিনি খোলা বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে। কেজি ৩৯ টাকা দরে হলেও ক্রেতারা এসব চিনি কিনছে না। তবে অন্যান্য পণ্যগুলোর মান নিয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। টিসিবি’র ডিলার আবদুল্লাহ জানান, চিনিগুলো ৩ বছরের পুরনো। এ ব্যাপারে টিসিবি’র ডিলার কামরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘চিনিগুলো যেমনি নিম্নমানের আবার প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ২/৩ কেজি করে কম। আমদানি করা এসব চিনি গুদামে রাখা হয়েছে। চিনি থেকে এক ধরনের গন্ধ বের হচ্ছে। ক্রেতারা বিনা পয়সায়ও নিচ্ছে না। প্রতিদিন ২০ বস্তা চিনি নিতে বাধ্য করা হচ্ছে ডিলারদের। চিনি না নিলে টিসিবি বাকি পণ্য দিচ্ছে না। ২০ বস্তা চিনির মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। বিক্রি না হলে এতো টাকা কিভাবে লোকসান দেব?’ পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার থেকে সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামেও ন্যায্যমূল্যে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। চিনি, ছোলা, মশুর ডাল, সয়াবিন তেল ও খেজুরসহ ৫টি পণ্য টিসিবি তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করছে। এদিকে দেশের ভোগ্য পণ্যের প্রধান পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কয়েকটি পণ্যের দাম হুহু করে বাড়ছে। বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজ, রসুন, আদার দাম কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। তবে এই কয়েকটি পণ্য ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। জনতা ট্রেডার্সের মালিক হাজী মুছা সওদাগর জানান, গতকাল হঠাত্ করে দাম বেড়ে গেছে। আমদানি কম হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে।