প্রেমে রাজী না হওয়ায় খুন হয় কলেজ ছাত্রী শান্তা!

প্রেমে রাজী না হওয়ায় আফরোজা আক্তার শান্তাকে (২১) অপহরণ করা হয়। তাকে বশে আনতে না পেরেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর সুকৌশলে লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়— এ অভিযোগ নিহত শান্তার পরিবারের। সরকারি হরগঙ্গা কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শান্তা। নিখোঁজ থাকার তিন দিন পর মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জ পুলিশ একটি এ্যাম্বুলেন্স থেকে তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় শান্তার বাবা বাংলাদেশ টেলিভিশনের হিসাবরক্ষক আসাদুল্লাহ মাদবর বাদি হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় শিক্ষানবীশ আইনজীবী নাজমুল হাসান ও তার বাবা পেশকার আব্দুস সাত্তার মোল্লাসহ তিন জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। জড়িত থাকার অভিযোগে নাজমুল হাসানের খালু আলী আহমদ বিপ্লবকে গ্রেফতার করেছে। তবে নাজমুল ও তার বাবা পলাতক রয়েছেন। এদিকে শান্তা হত্যার প্রতিবাদের গতকাল শহরের স্বদেশ কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা ক্লাস বন্ধ রাখে এবং প্রধান সড়কে মানববন্ধন করেন। নিহত শান্তার ভাই মাহমুদ হাসান চঞ্চল বলেন, আমাদের তিন ভাইয়ের একমাত্র বোন শান্তা। কলেজে পড়াশুনার পাশাপাশি স্থানীয় স্বদেশ কিন্ডার গার্টেনে শিক্ষকতা করতো। এটা ছিল মূলত শখের বসে। গত কয়েক মাস ধরে মুন্সিগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পেশকার আব্দুস সাত্তার মোল্লার ছেলে নাজমুল হাসান তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু শান্তা বরাবরই তা প্রত্যাখ্যান করেছে। অপরদিকে গত সপ্তাহে শান্তার বিয়ে ঠিক হয়। ছেলে পেশায় চিকিত্সক। বিয়ের তারিখ নির্ধারিত হয় ২০ জুন। এ অবস্থায় গত শনিবার সকালে কোচিং করে বাসায় ফিরছিল শান্তা। এ সময় নাজমুল তাকে অপহরণ করে সাভার নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে শান্তাকে জোর করে বিয়ে করার চেষ্টা করে। কিন্তু শান্তা আবারও প্রত্যাখ্যান করে। আর এই প্রত্যাখ্যান করার কারণেই নাজমুল তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। শান্তার বড় ভাই মাহফজুল্লাহ পিয়াল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বোনকে অপহরণ করে নাজমুল হত্যা করেছে, আমরা হত্যাকারীদের বিচার চাই। মুন্সিগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (চলতি) জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। লাশের গলায় কালো দাগ ছিল। শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। শান্তার লাশের সুরতহাল রিপোর্টের সময় উপস্থিত থাকা মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, গলায় আঘাত রয়েছে এবং মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-শ্বাসরোধ জনিত কারণে মৃত্যু হতে পারে। তার গলার ডানপাশে বেশ ক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী অন্য চিকিত্সকরাও। মুন্সিগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, শনিবার সকালে হরগঙ্গা কলেজের কাছে শিক্ষকের বাসায় কোচিং করে নিজ বাসায় ফেরার পথে শান্তা নিখোঁজ হয়। তবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়নি। গ্রেফতারকৃত আলী আহমদ পুলিশকে জানিয়েছেন, নাজমুল ইসলামের সঙ্গে শান্তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের কারণেই নাজমুল তাকে মুন্সিগঞ্জ থেকে সাভারে নিয়ে যায়। সোমবার বিকালে শান্তা হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিত্সকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। কিন্তু হাসপাতাল থেকে কোন ডেথ সার্টিফিকেট নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, নাজমুল শান্তার লাশ বহনের জন্য এনাম হাসপাতালের সামনে থেকে এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে। তবে মুন্সিগঞ্জ মুক্তারপুর এলাকায় পৌঁছার পরপরই নাজমুল এ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে যায়। আর নেমে যাওয়ার আগেই মোবাইল ফোনে নাজমুল তার খালু আলী আহমদকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধারের সময় আটক করে নাজমুলের খালু আলী আহমদ ও এ্যাম্বুলেন্সের চালক জিয়াউল ইসলামকে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জিয়াউলের কোন সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, লাশ উদ্ধারের পরক্ষণেই পুলিশ নাজমুল ইসলাম ও তার বাবাকে গ্রেফতার করতে তাদের মাঠপাড়া বাসভবনে অভিযান চালায়। তবে বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। গতকাল নাজমুলের বাবা কর্মস্থলেও যোগ দেননি। এদিকে সাভার থেকে এ্যাম্বুলেন্সে এক মহিলাও এসেছিল। সেও পথিমধ্যে নেমে যায়। তার নাম পাওয়া যায়নি। তাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত আলী আহমদ বিপ্লবকে গতকাল ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়। বুধবার শুনানি ধার্য রেখে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।