ঈশ্বরদীতে মৈত্রী এক্সপ্রেসে তল্লাশির সময় সংঘর্ষ

ঈশ্বরদী স্টেশনে কলকাতা হতে ঢাকাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশির সময় গতকাল মঙ্গলবার বিকালে যাত্রীদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হাতাহাতির ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, বিজিবি সদস্য বিজয়, ট্রেন যাত্রী আছমা খাতুন, হাসিনা বেগম, শামসুল হকসহ অজ্ঞাত একজন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা দেয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল তিনটার দিকে ঈশ্বরদী স্টেশনে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন থামার পর বিজিবি কুষ্টিয়া ৩২ ব্যাটেলিয়নের একদল সদস্য তাতে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধ ভারতীয় মালামাল উদ্ধার করে। বিজিবি সদস্যরা ব্যাগেজ পার্টির যাত্রীদের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি পিস, বিদেশি মদসহ বিভিন্ন মালামাল টেনে নামায়। এসময় কয়েকজন ট্রেন যাত্রী বিজিবি সদস্যদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, বৈধ মালামাল নামাচ্ছেন কেন? এর পরপরই ট্রেন যাত্রীদের সঙ্গে বিজিবি সদস্যদের কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষের সময় স্থানীয় জনতার ছোঁড়া পাথরের আঘাতে বিজিবি সদস্য বিজয়ের মাথা ফেটে যায়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় আহত হন চারজন ট্রেন যাত্রী। এক পর্যায়ে উপস্থিত জনতা ও ট্রেন যাত্রীরা আটককৃত মালামাল লুট করার জন্য এগিয়ে গেলে বিজিবি সদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে স্টেশন ত্যাগ করে। জনতা এসব মালামাল লুট করে নেয়। রেলওয়ে থানার ওসি হুমায়ন কবীর জানান, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের বাঁধার মুখে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধারকৃত মালামাল না নিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ৩২ ব্যাটেলিয়নের সিও লে. কর্নেল খন্দকার মাহমুদ হোসেন ফাঁকা গুলি বর্ষণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গোপন সূত্রে ভারতীয় অবৈধ মালামাল আনার খবর পেয়ে ঈশ্বরদী স্টেশনে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু যাত্রীদের অসহযোগিতা এবং চোরাচালানীদের দৌরাত্মের কারণে মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।