জঙ্গিরা দখলের পর মসুল ছেড়েছে ৫ লাখ মানুষ
আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৪, ২১:১৫
ইসলামী বিদ্রোহীরা ইরাকের মসুল শহর দখল করার পর পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ শহরটি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এরই মধ্যে আরো কয়েকটি শহর জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরাকে ইসলামী জঙ্গিদের এরকম উত্থানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্র একে নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে ইরাক সরকারকে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে।
ইসলামী বিদ্রোহীরা ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর শহরটি থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। পালিয়ে যাওয়াদের মধ্যে সেনা ও পুলিশ সদস্যরাও রয়েছে। তারা কুর্দিস্তানের তিনটি শহরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে। প্রদেশটির আঞ্চলিক সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সেখানে কয়েকটি আশ্রয় শিবির খুলেছে। সপ্তাহব্যাপী সংঘর্ষের পর গত মঙ্গলবার নিনেভ প্রদেশের রাজধানী মসুল পুরোপুরি দখল করে নেয় জিহাদিস্ট ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড লিভ্যান্ট (আইএসআইএল)। তারা প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকা ঘিরে রেখেছে বলেও জানা গেছে। মসুলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে প্রতিষ্ঠার পর এরই মধ্যে জঙ্গিরা তাদের দখলের পরিমাণ আরও বাড়িয়েছে। পুলিশ বলেছে, জঙ্গি গোষ্ঠীটি কিরকুক ও সালেহদিন প্রদেশের কয়েকটি শহরেরও দখল নিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে ইরাকের প্রেসিডেন্ট নুরি আল মালিকি পার্লামেন্টের অনুমোদন নিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন।
এদিকে, মসুল দখলের পর আইএসআইএল’কে নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মসুলের পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেন পিসাকি। যুক্তরাষ্ট্র এই ‘আগ্রাসন’ মোকাবেলায় ইরাককে সমন্বিতভাবে জোরালো সমর্থন করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত প্রধানমন্ত্রী নূরী আল মালিকিকে সুন্নি সংখ্যালঘুদের সাথে মিলেমিশে পরিস্থিতি উন্নয়নেরও আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জন আর্নেস্ট বলছেন, ‘এটা পরিষ্কার যে ইরাকে সম্প্রতি কিছু মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তা দেবার মাধ্যমে ইরাকের সাথে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে।’
অপরদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন বলেছেন, তিনি মসুলের এই পরিস্থিতিতে ‘ভীষণ উদ্বিগ্ন’। তিনি ইরাকি সরকার ও কুর্দি প্রাদেশিক সরকারকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পরস্পরকে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন।