জিকোর চোখে বিশ্বকাপে সেরা ৬ তরুণ ফুটবলার

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলতে নামাটা সব সময়ই কঠিন পরীক্ষার। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা পর্যন্ত মারাত্মক চাপ অনুভব করেন। সেখানে তরুণ ফুটবলারদের কাছে জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ সব সময়ই স্নায়ুচাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে বেশ কয়েকজন তরুণ এই স্নায়ুচাপকে কাটিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন। এবারের বিশ্বকাপ আসরে তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে নিজের ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন ব্রাজিলের অন্যতম কোচ জিকো। তরুণ ফুটবলারদের কথা বলার সময় জিকোর মুখে উঠে আসে সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলে, ইংলিশ ফুটবলার মিচেল ওনারদের নাম। তার মতে, তরুণ খেলোয়াড় হিসাবে বিশ্বকাপের চাপ মোকাবেলায় সবচেয়ে এগিয়ে আছেন পেলে। যিনি ১৯৫৮ সালে মাত্র চার ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে একটি হ্যাট্রিকসহ করেছিলেন ছয় গোল। ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসাবে গোল করে রেকর্ড বুকে নাম লেখান পেলে। এরপর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করে দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দেন তরুণ পেলে। আর ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে দুই গোল করে দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন ৫-২ গোলের বড় ব্যবধানে। পেলের পরই উল্লেখ করলেন ৯৮ বিশ্বকাপের তরুণ তারকা মিচেল ওনারের কথা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত গোল করে জয় করেছিলেন স্নায়ুচাপকে। তার মতে, মিচেল ওনারের সেই গোল ইংলিশরা মনে রাখবে দীর্ঘদিন। জিকো বিশ্বাস করেন ব্রাজিল বিশ্বকাপেও বড় চমক দেখাবেন তরুণ খেলোয়াড়রা। তবে তাদের স্নায়ুচাপ মোকাবেলায় সহযোগিতা করতে হবে দলের জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়দের। ঠিকমতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সহযোগিতা পেলে শ্রেষ্ঠ খেলাটাই দেখাবেন তরুণরা। যে কয়জন তরুণ ফুটবলারকে নিয়ে বেশ আশাবাদী তার মধ্যে রয়েছে ব্রাজিলিয়ান অস্কার, বেলজিয়ামের ইডেন হাজার্ড, ইংল্যান্ডের ড্যানিয়েল স্টারিজ, জার্মানির মারিও গোেজ, ফ্রান্সের পল পগবা, বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিয়াবাউত কার্তোউস। অস্কারের কথা বলতে গিয়ে জিকো বললেন, আমার মতে ব্রাজিল বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে অস্কার। বিশ্ববাসী নেইমারকে নিয়ে মাতামাতি করতে গিয়ে হয়তো অস্কারের কথা ভুলেই গেছেন। অস্কারের দুর্দান্ত কিছু কৌশল রয়েছে যা আমাকে মুগ্ধ করে। সে খেলার মেজাজ বুঝে নিজের ভূমিকা রাখতে পারে। ছোট ছোট পাসের ক্ষেত্রেও বিপক্ষ দলকে ভড়কে দেয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার। ইংলিশ ফুটবল ক্লাব চেলসির হয়ে কয়েকটি গোলের মধ্যে দিয়ে অসাধারণ ফিনিশিংয়েরও প্রমাণ দিয়েছে অস্কার। সেলেসাওদের শেষ হাসি এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারেন এই অস্কার। জিকোর তরুণ ফুটবলারদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে বেলজিয়াম তারকা ইডেন হাজার্ডের নাম। তার মতে, বলের ওপর দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকারী হাজার্ডের ওপর বেলজিয়ামের সমর্থকদের ভরসা থাকবে অনেক বেশি। বল নিয়ে ছুটতেও জুড়ি নেই হাজার্ডের। বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের খেলাতেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন বেশ ভালোভাবেই। ইডেন হাজার্ড সময়মতো জ্বলে উঠলে দিনটা পরিণত হতে পারে বেলজিয়ামবাসীর উত্সবে। তরুণ ফুটবলারদের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন ইংলিশ তারকা ড্যানিয়েল স্টারিজ। লিভারপুলের হয়ে খেলা এ ইংলিশ তারকার ধৈর্য এবং গতিশীলতাই নাকি মুগ্ধ করেছে জিকোকে। ইংলিশ লিগে ২০ গোল করে ড্যানিয়েল নিজের গোল করার ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। তার জন্য আরেকটি সুখবর হচ্ছে খেলার সময় তার আশেপাশেই থাকবেন স্টিভেন জেরার্ডের মতো লিভারপুলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। তাই বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের জন্য ড্যানিয়েলকে সামলানোটাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ‘মরণকূপ’ ডি গ্রুপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হলে সর্বোচ্চটাই দিতে হবে ড্যানিয়েল স্টারিজকে। জিকোর তালিকায় চার নম্বর অবস্থানে রয়েছে জার্মান তারকা মারিও গোেজর নাম। তার মতে, বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী গোেজ। তার কৌশলগুলো দেখতে বেশ ভালোই লাগে। বাঁ-ডান উভয় উইংয়ে-ই খেলার সমান ক্ষমতা রয়েছে গোেজর। পরিস্থিতির কারণে স্ট্রাইকারের ভূমিকায় দায়িত্ব পালনেও তার জুড়ি নেই। মাঠের মধ্যে নিজের জায়গা তৈরি করা এবং জায়গা মতো বল দেয়ার অসাধারণ দক্ষতা তাকে মুগ্ধ করেছে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলা মারিও গোেজ সঙ্গী হিসাবে ক্লাবের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে পাশে পাচ্ছেন। যা কিনা তার আসল প্রতিভাকে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফ্রান্সের অন্যতম ভরসার নাম পল পগবা। জিকোর তালিকায় তিনি রয়েছেন পাঁচ নম্বরে। কোন রকমে বাছাই পর্ব পার করে আসা ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসাবে তরুণ প্রতিভার অধিকারী এই পগবাকেই আখ্যায়িত করেছেন জিকো। সাধারণত মিডফিল্ডে খেলেন পগবা। কিন্তু দলের প্রয়োজনে আক্রমণভাগে কিংবা রক্ষণভাগেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন পগবা। জিকোর মতে, এতো অল্প বয়সে এতো দায়িত্ব নিয়ে খেলাটাই হচ্ছে পগবার সবচেয়ে বড় গুণ। চোখের পলকেই পগবা বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ঢুকে যেতে পারেন। এটাও তার অনন্য দক্ষতাগুলোর মধ্যে একটি। ফ্রান্সের জন্য তাই পগবা হতে পারেন একজন তরুণ কান্ডারি। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিয়াবাউত কার্তোউস রয়েছেন জিকোর তালিকার ছয় নম্বরে। এতলোটিকো মাদ্রিদের হয়ে খেলা এই গোল রক্ষক টানা দুই মৌসুম জিতেছেন রিকার্ডো জামোরা ট্রফি। খেলা অনুযায়ী কম গোল হজম করা গোলরক্ষকই পান এই ট্রফি। তরুণ হয়েও বিশ্ববাসীর কাছে তিনি তার যোগ্যতা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দিয়েছেন। তাই এবারের বিশ্বকাপে চমকে দেয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় নাম থাকতে পারে এই তরুণের। গার্ডিয়ান অবলম্বনে।