সুষমা স্বরাজের সফরে আলোচনা হবে তিস্তা আর রেল নিয়ে
তারিক হাসান, কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৪, ২২:৫৩
তিস্তার পানি বন্টনের পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের প্রথম ঢাকা সফরে আলোচনা হতে পারে ঢাকা-আগরতলা রেল সংযোগ ও ঢাকা-কলকাতা ‘মৈত্রী’ ট্রেন চলাচলের দিন বৃদ্ধি নিয়ে। আলোচ্য সূচিতে ঠাঁই পেতে পারে কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরা পর্যন্ত যান চলাচলের বিষয়টিও।
দিল্লির সাউথ ব্লক সূত্রের খবর অনুযায়ী, সুষমা স্বরাজের প্রথম ঢাকা সফরটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই ভারত ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত ইস্যুগুলির সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। নজর দিচ্ছেন সম্পর্ক উন্নয়নে। সূত্রটি জানায়, বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা ভ্রমণার্থীরা ভিসা পেতে সমস্যায় পড়েন। বিশেষ ক্ষেত্রে ‘অন এরাইভাল ভিসা’ চালু করা যায় কিনা, সে বিষয়টিও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।
ঢাকা-কলকাতা ‘মৈত্রী’ ট্রেনের যাত্রী বাড়ছে। আসন পাওয়া মুশকিল হচ্ছে। আরো বেশি মানুষ ট্রেনে ঢাকা ভ্রমণ করতে চাইছেন। বর্তমানে এক জোড়া করে ট্রেন চলে দু’দেশের মধ্যে। তা বাড়িয়ে সপ্তাহে দু’জোড়া করা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এমনকি যাত্রী চাহিদা সামাল দিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ট্রেনে বগি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। অন্যদিকে, ঢাকা-আগরতলা রুটের রেল লাইন তৈরির কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গেছে। এই রুটে ট্রেন চলাচল দু’দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদা। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হবে এই রুটটি চালু হলে এক দিকে যেমন ত্রিপুরার মানুষ ঢাকায় ট্রানজিট করে দ্রুত কলকাতায় যেতে পারবেন তেমনই ভ্রমণ কর বাবদ বাংলাদেশ অতিরিক্ত আয় করতে পারবে। সড়ক পথেও কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোয় যাতায়াতের বিষয়টি আলোচনায় উঠবে।
তিস্তা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের চাহিদার বিষয়। মমতা ব্যানার্জীর অসম্মতির কারণে তিস্তার পানি বন্টন সংক্রান্ত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি হতে পারে নি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সমপ্রতি নিজের ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, ভারত সরকারের সঙ্গে আর্থিক দাবি-দাওয়া সংক্রান্ত সমস্যা মিটে গেলে তিস্তার পানি দিতে তাঁর আপত্তি নেই। ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের পর এনিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠকে বসবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সেই কথায় বলা হবে ভারতের পক্ষ থেকে। তার আগে জানার চেষ্টা হবে তিস্তার কতটা পানি বাংলাদেশের দরকার। তিস্তার পানিপ্রবাহ বাড়ানোর পথ খোঁজার চেষ্টা হবে এই বৈঠকে।