মালয়েশিয়া অভিমুখী জাহাজে পাচারকারীদের গুলিতে নিহত ৫
কক্সবাজার প্রতিনিধি ও টেকনাফ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৪, ২৩:০১
সেন্টমার্টিনের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে আদম পাচারকারীদের গুলিতে মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি ৫ যুবক নিহত হয়েছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে আরো প্রায় ৪০ জন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে সেন্টমার্টিনের প্রায় ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমার জলসীমার কাছাকাছি অবস্থানরত মালয়েশিয়াগামী একটি জাহাজে এ ঘটনা ঘটে।
ওই জাহাজে মোট ৩১৭ জন যাত্রী ছিল। পরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী সাগরে ভাসমান বিকল জাহাজ থেকে ৩১২ জনকে জীবিত অবস্থায় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করে। তাদের সেন্টমার্টিনে এনে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়। সেখানে তাদেরকে নিয়ে টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়া হয়। গতরাত পৌনে ৯টায় এ রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে তারা টেকনাফে এসে পৌঁছায়নি।
নিহত পাঁচজন হলেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রশিদের ছেলে মোঃ সেলিম ও একই এলাকার মোকামের ছেলে রুবেল, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সালাহউদ্দিনের ছেলে এবাদুল, বগুড়ার কাহালু উপজেলার সাইফুল ও সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মনির।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মালয়েশিয়াগামী ওই জাহাজের যাত্রী জাফর আলম ওরফে কালা বদা (৩৫) জানান, মঙ্গলবার রাতে তারা মহেশখালীর হোয়ানকের পানিরছড়া থেকে ছোট বোটে করে ৪০ জন লোক মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। আজ বুধবার সকালে সেন্টমার্টিনের অদূরে অবস্থানরত একটি সমুদ্রগামী জাহাজে তাদের তুলে দেয়া হয়। ওই জাহাজে আগে থেকেই আরো কয়েকশ যাত্রী ছিল। যারা গত প্রায় ১৬ থেকে ১৮ দিন ধরে মালয়েশিয়া যাবার উদ্দেশ্যে ওই জাহাজে অবস্থান করছিল। অপেক্ষমাণ থাকার কারণে যাত্রীরা দালালদের (আদম পাচারকারী) উপর খুব ক্ষিপ্ত ছিল। এ সময় ওই জাহাজের আশেপাশে দালালদের আরো ৪টি ট্রলার টহল দিচ্ছিল। জাফর আলম জানান, সকালে তারা ছোট বোট থেকে জাহাজে ওঠার পর আগের যাত্রীরা দালালদের সাথে তীব্র তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে দুই দালাল বঙ্গোপসাগরে ঝাঁপ দিয়ে আরেক ট্রলারে ওঠে এবং যাত্রীদের উপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এ সময় যাত্রীদের অনেকেই সাগরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালায়। পরে দালালরা জাহাজের ইঞ্জিন বিকল করে দিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি জানান, পরে মোবাইল ফোনে আত্মীয়-স্বজনকে ঘটনার কথা জানানোর পর প্রশাসন সন্ধ্যায় তাদের উদ্ধার করে। টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কাজী হারুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিকল জাহাজটি অন্য জাহাজের সাথে টেনে প্রথমে সের্ন্টমার্টিনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়ার পর তাদেরকে নিয়ে টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা হয়।