গুরুদাসপুরের মাসিদুল গাছ ফেরি করে জীবন চলে যার
মো. রাশিদুল ইসলাম, গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৪, ২৩:০৬
তিন চাকার একটি রিকশাভ্যান। তার উপর মাটির টবে বসানো আম্রপালী, ফজলী, দেশি ফজলী, খিরসাপাত, আশ্বিনা, মিছরিদানা ও লোকনাথ জাতের আমের চারা। থোকায় থোকায় আম ধরে রয়েছে চারা গাছগুলোতে। ঘুরছে এগলি, ওগলি...।
গাছের ওই ফেরিওলার নাম মাসিদুল ইসলাম (৪০)। নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় কাচারীপাড়া মহল্লায় তার বাস। জীবন-জীবিকার তাগিদে তিনি বেছে নিয়েছেন ঘুরে ঘুরে গাছ বিক্রির পেশা। সেটা চলছে তিন বছর ধরে।
ঋণের দেড় হাজার টাকায় শুরু। বগুড়ার ‘সাথী-সবুজ নার্সারি’ থেকে নানা প্রজাতির চারা গাছ কিনে এনে ব্যবসা শুরু করেন। এতে ভালোই লাভবান হতে থাকেন মাসিদুল। সময়ের ব্যবধানে তিনি নিজেই নার্সারি শুরু করেন। কলম পদ্ধতিতে চারা রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে জমজমাট হতে থাকে তার গাছের ব্যবসা। এখন নার্সারিতে তার দুই হাজারের অধিক চারা গাছ রয়েছে। তিনি নিজেই এসব গাছ ফেরি করে বেড়ান। স্ত্রী-সন্তানরা তাকে এ কাজে সহায়তা করে থাকেন। আকার ও প্রকারভেদে প্রতিটি চারাগাছ ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। অনেকে খুচরা ও পাইকারি দামে নার্সারি থেকেও কিনে নিয়ে যায়। বছরে সাত থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। এ কারণে সংসারে অভাব নেই।
মাসিদুল জানান, এক সময় বাঁশের চাটাই বুননের কাজ করে সংসার চলতো। কিন্তু অভাব ঘোচেনি চার সদস্যের সংসারে। পরে স্ত্রী আরিফা বেগমের মাধ্যমে একটি এনজিও থেকে ঋণ উত্তোলন করে এই ব্যবসা শুরু করে তার আর্থিক পরিবর্তন হয়েছে। আগামীতে বড় ধরনের নার্সারি করার চিন্তা রয়েছে তার। মাসিদুল বলেন, শুধু যে টাকার জন্যই তিনি গাছ ফেরি করে ফেরেন তা নয়, সৌন্দর্য, দেশের উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, ফল, টাকা সবই আসে এ পেশা থেকে। একারণে এ পেশার প্রতি দরদ, মমত্ববোধ জন্মেছে। রয়েছে প্রকৃতির আশীর্বাদ। মাসিদুলের স্ত্রী আরিফা বেগম বলেন, গাছ বিক্রির টাকা থেকে তাদের সংসারে অভাব দূর হয়েছে। দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে সুখেই কাটছে তাদের দিন।