শার্শায় দুই সন্তানকে হত্যার পর গৃহবধূর আত্মহত্যা!

শ্বশুর-শাশুড়িসহ আটক তিন

যশোর অফিস

যশোরের শার্শায় শাশুড়ির ‘অনৈতিক সম্পর্ক’ নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূ দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার রাত ১১টার দিকে শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ইব্রাহিম হোসেনের স্ত্রী হামিদা খাতুন (২৭) ও তার মেয়ে শরিফা খাতুন (১১) ও ছেলে সোহান (৪)। সোমবার সকাল ৯টার দিকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর শ্বশুর আরাফাত সরদার, শাশুড়ি মরিয়ম বেগম ও সিদ্দিক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

নিহত হামিদা খাতুনের ভাই মিজানুর রহমান বলেন, হামিদার শাশুড়ি মরিয়ম খাতুনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল এলাকার একাধিক লোকের সঙ্গে। তাদের যাতায়াত ছিল বাড়িতে। এটা আমার বোন মেনে নিতে পারেনি। এ সব বিষয় নিয়ে বোনকে নানা অজুহাতে নির্যাতন করত শাশুড়ি। রবিবার বিকালে শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া হয় হামিদার। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজে আত্মহত্যা করেছে। ওইসময় তার স্বামী বাড়ি ছিল। ফোনে আমাদের জানায়, তিনজন বিষ খেয়েছে।

মিজানুর রহমান বলেন, ঈদের নতুন কাপড় কিনতে না পেরে দুই সন্তানকে হত্যার পর হামিদার আত্মহত্যার বিষয়টি সঠিক নয়। মূলত শাশুড়ির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে।

শার্শার বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক আবদুর রহিম হাওলাদার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে শাশুড়ির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজে আত্মহত্যা করেছে হামিদা। রবিবার পরের খেতে হাঁস যাওয়া নিয়ে বৌ-শাশুড়ির মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এরপর এ ঘটনা ঘটেছে।

শার্শা থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া বলা যাবে না। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও স্থানীয় এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।