খালেদ হোসাইনের কাব্যগ্রন্থ ‘এলোকেশী’

শিল্পকুশলতায় অনন্য সৃষ্টি

এলোকেশী খালেদ হোসাইন প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ প্রকাশক :অনিন্দ্য পাবলিশার্স মূল্য :একশত পঁচিশ টাকা প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০১৪ ২০১৪ বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে কবি খালেদ হোসাইনের একাদশতম বই ‘এলোকেশী’। এই কাব্যগ্রন্থটির কবিতা পড়তে পড়তে একটি ঘোর তৈরি হয়। কবি তাঁর উপস্থাপন ভঙ্গিতে, এলোকেশীর রূপ-গুণ বর্ণনায় যে বৈচিত্র্যময় কৌশল অবলম্বন করেছেন তাতে সহজেই পাঠককে এলোকেশীর বুকের উষ্ণ পরশে হারিয়ে যেতে সাহায্য করে। আবার হঠাত্ চৈতন্যও ফেরাতে হয় তার পাগল প্রেমিকের ডাকে। এলোকেশী কাছে না থাকায় তাকে খোঁজেন মহুয়াতলায়, রাস্তায়, পথে-ঘাটে, অলিতে-গলিতে, মেডিকেল মোড়ে, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। প্রেমিকা কাছে না থাকলে প্রেমিকের যা হয়। রক্তে শর্করা বেড়ে যাবার দশা। তিনি আবার খুঁজে পান তাঁর এলোকেশীকে। যে কবিকে গান শোনায় গভীররাতে। ফিসফিস করে প্রেমালাপ করে। সে সিল্কের শাড়ি পরে, কিন্তু কবি তা দেখতে পান না। একটু যন্ত্রণা মনে লালন করেন। যেমন কবি এলোকেশীর চুল ছুঁতে না পারার যন্ত্রণাকে পোষণ করেন। বাংলা কাব্যের অধিকাংশ ছন্দকে ছুঁয়েছেন কবি যা তাঁর কাব্যরীতির একটি সাধারণ এবং নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। প্রিয়া কবিকে বকে, কেন কবি তার সঙ্গে রাগ করেন না, সেজন্যে। কবি কি বকতে পারেন? যাঁর নিকট এলোকেশী—‘ও-ই আমার রাজনীতি/ ও-ই আমার কবিতা/ রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে নির্জন রাস্তায়/ ও-ই আমার অনন্ত সঙ্গীত।’ দেশে ভবন ধস, বাসে আগুন দেবার ফলে যেকোনো মুহূর্তে প্রাণ যাবার আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে প্রিয়া কি দেশ ছেড়ে বিদেশে যাবে, কবি প্রশ্ন রাখেন। কিন্তু দেশের প্রতি তার অনেক মায়া, যেমন রয়েছে কবির প্রতি। কবিকে মাঝেমাঝে তাড়িয়ে দিলেও প্রিয়া তাঁকে অনেক বেশি ভালোবাসে। প্রাণের সবটুকু আবেগ, ভালোবাসায় কবিকে ভরিয়ে রাখে। আবার আত্মগোপন করে, ধরা দিতে চায় না। পোড়ায় কবিকে, পুড়ি আমরাও। কাব্যটিতে একটি কিছু আছে যা আমাদের টানে। চরিত্রটি বেশ সাড়া ফেলবে। কাব্যটিতে প্রেম-ভালোবাসা, সম্পর্কের টানাপড়েন, সমকালীন রাজনীতি মিশে একাকার। স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, অক্ষরবৃত্ত, গদ্য ঢঙে লেখার ফলে তা আরো প্রাণবন্ত হয়েছে। জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘নীরা’ চরিত্রের সঙ্গে খালেদ হোসাইনের এলোকেশী নামটিও জায়গা পাবে বলে আমার বিশ্বাস।