জাদুকরের শেষ বিশ্বকাপ

মাঝমাঠের জাদুকর, ফিল্ড মার্শাল; নানা কিছুই বলা হয় তাদের। কিন্তু বাস্তবতা হল এই সময়ে এসে সেই জিনেদিন জিদান, ইয়োন ক্রুইফ, জিকোদের উপস্থিতি যেন কমে যেতে বসেছে। এদিকে জাভি-ইনিয়েস্তা এবং ইতালিতে আন্দ্রে পিরলো; এই বাদ দিলে মাঠ মাঠের শিল্পী খুজে পাওয়াই ভার। এই দুঃসংবাদটাকে আরও বড় বানিয়ে দিয়েছে, এবারের বিশ্বকাপই শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে সম্ভবত জাভির। সেই সঙ্গে এবার আন্দ্রে পিরলোও জানিয়ে দিলেন, এই বিশ্বকাপের পর আর নয়। এখানেই শেষ হতে যাচ্ছে ইতালিয়ান এই শিল্পীর অধ্যায়। এক যুগ ধরে বছর দলকে সার্ভিস দিয়েছেন। শরীরটা আর নাকি সায় দিচ্ছে না। ৩৫ বছল বয়সে এসে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চান ইতালিয়ান এই মিডফিল্ডার। চলমান ব্রাজিল বিশ্বকাপকে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখছেন এই পিরলো। তার মতো একজন ফুটবলার ইতালির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের পর তিনি যদি সত্যিকার অর্থেই বিদায় নেন তাহলে বড় মাপের একজন খেলোয়াড়কে হারাবে ইতালি। পিরলোর পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে সিজার প্রানদেল্লিকে ভাবা হয়। জুভেন্টাস তারকা ফুটবলার পিরলো বললেন, এই বিশ্বকাপের পরও খেলাটা চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন মনে হয় তার কাছে, ‘আমি এখন একটি নির্দিষ্ট বয়সে উপনিত হয়েছি। আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক ফুটলব ক্যারিয়ারের ইতি টানার এটাই মোক্ষম সময়। এই বিশ্বকাপের পর অবসরে যাওয়া চিন্তা-ভাবনা করছি। বিশ্বকাপের পর আমার জন্য ফুটবল চালিয়ে যাওয়াটা অর্থহীন হবে। ক্যারিয়ারের ইতি টানার এটাই আমি উপযুক্ত সময় মনে করছি। দরকার হলে তো আমি খেলবোই। কিন্তু যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, তখনও দলে থেকে বোঝা বাড়ানোটা আমার নিজেরই বিরক্তিকর মনে হয়। ফলে চলে যাওয়াই ভালো।’ পিরলো কখনোই মনে করেন না, তিনি বিদায় নিলে ইতালি খুব বিপাকে পড়ে যাবে। এটা বোঝানোর জন্য এমনও বললেন যে, ইতালির বর্তমান দলটাও পিরলো নির্ভর দল নয়, ‘ইতালি কখনো পিরলো নির্ভর দল নয়; এখনও না। আমাদের দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা ইতালিকে জেতাতে পারে। আমাদের দলটা খুবই লড়াকু এবং এই টুর্নামেন্ট জিততে যা করার তাই করতে প্রস্তুত। আমাদের এখন জিততে হবে। একেবারে শেষ পর্যন্ত জয়ের ধারাটা ধরে রাখতে হবে। তবে যাওয়ার আগে আরেকটাবার ইতালিকে আনন্দের সাগরে ভাসিয়ে যেতে চান। আরেকবার স্বপ্নের ট্রফিটা ইতালিতে নিয়ে যেতে চান। আর সেটা করতে গেলে ইংল্যান্ডের বাধাটা পার করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ, তাও জানেন পিরলো, ‘বিশ্বকাপ জেতা সবসময়ই স্বপ্নের ব্যাপার। এই স্বপ্নের চূড়ান্ত রূপ হল ব্রাজিল থেকে বিশ্বকাপ জিতে ফেরা। সেটাই করতে চাই আমরা। তবে সবাই জানে, কাজটা সহজ হবে না। আমাদের তরুণ খেলোয়ড়ের সর্তক থাকতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইতালি সব সময়ই ভালো খেলে এসেছে। এবারও তাদের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা আমাদের রয়েছে। বড় দলের বিপক্ষে জয় পেতে হলে দলের সাইকে অবদান রাখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য জয় এবং টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলা। আমাদের দল লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। টুর্নামেন্ট জিততে হলে অমাদেরকে নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করতে হবে।’