তানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা
তানোরে নিজ ছেলের লাঠির আঘাতে রোজারত অবস্থায় বয়োবৃদ্ধ মা রহিমা খাতুন (৬৫) মারা গেছেন। এ নিয়ে তানোর থানায় নিহতের স্বামী শামজাত হাজি বাদী হয়ে নিজ পুত্র একরামুল হককে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল সোমবার সকালে নিহত রহিমা খাতুনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরশহরের গৌরাঙ্গাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে ঈদের কেনাকাটার জন্য রহিমা বেগম ছোট ছেলে আমিরুল হককে দুই হাজার টাকা দেন। আমিরুল মায়ের দেওয়া টাকা পেয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে চলে আসেন মুন্ডুমালা বাজারে। এদিকে ছোট ছেলেকে টাকা দেওয়ার কথা শুনে বড় ছেলে আব্দুল হক ও মেজো ছেলে একরামুল হক তারাও মায়ের কাছে তিন হাজার করে টাকা দাবি করে। তার মা তাদেরকে দুই হাজার টাকা দিতে চাইলে তারা নিতে অস্বীকার করে। এ সময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে একরামুল একটি মোটা লাঠি দিয়ে তার মায়ের মাথার পিছনে সজোরে আঘাত করলে সেখানেই টলে পড়েন রহিমা বেগম। পরে প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় রহিমা বেগমকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
হত্যার পর থেকে মূল ঘাতক ছেলে একরামুল হক পলাতক রয়েছে। তবে এলাকাবাসীর সহায়তায় অপর দুই ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ থানা হেফাজতে নিয়েছে।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর থেকেই মূল আসামি ছেলে একরামুল পলাতক রয়েছে। তাকে ধরতে আমরা জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর অপর দুই ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।