মহিমান্বিত ও সৌভাগ্যের রজনী শব-ই-বরাত

শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে বলা হয় শবে বরাত। যার অর্থ ভাগ্যের রজনী বা সফলতা লাভের রজনী। কেহ কেহ গুনাহ মাফের রজনী বলে অবিহিত করেছেন। তাই শবে বরাতের গুরুত্ব ও তাত্পর্য ব্যাপক ও সুদুর প্রসারী, এ প্রসঙ্গে আল্লাহ মুহাম্মদ মাদানী রচিত হাদিসে কুদসী গ্রন্থের অনুবাদক মোমতাজ উদ্দিন আহম্মদ ১২ নং অধ্যায়ের ভূমিকার মধ্যে উল্লেখ করেছেন “শাবান মাসের ফযিলাতের দুটি বিশেষ কারণ রহিয়াছে, প্রথমত:ইহা নিজেই ফজিলতের মাস। ইহার মধ্যভাগে যে তিনটি রোজা রাখার বিধান রহিয়াচে উহা নফর হলেও উহার নেকী অপরিসীম। দ্বিতীয় সাবান মাস পবিত্র রমজানের অগ্রদূত। লাইলাতুল বরাতে রয়েছে অন্তর্নিহিত ফজিলত ও কল্যাণ। এ প্রসঙ্গে আল্লামা মুহাম্মদ মাদানী সংকলিত হাদিসে কুদসি গ্রন্থের ১৩৭ নং হাদিসে ইবনে মাজা হযরত আলী (রা.) এর সূত্র ধরে বলেছেন “যখন শাবান মাসের অর্ধেক (অর্থাত্ পনর তারিখ) রাত্রি আসে তখন তোমরা সেই রাত্রিতে কিয়াম কর (ইবাদত কর) এবং দিনে রোজা রাখ। কারণ আল্লাহ ইহাতে সূর্যাস্তের পর পরই দুনিয়ার নিকটতম আকাশে নামিয়ে আসেন এবং বলেন “কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী কি নাই যে, আমি তাহাকে ক্ষমা করিতে পারি? কোন রিযিক অনুসন্ধানকারী নাই, যে, আমি তাহাকে রিযিক দিতে পারি? কোন পীড়িত ব্যক্তি নাই যাহাকে আমি সুস্থ্যতা দান করিতে পারি? কোন যাঞ্চাকারী নাই যে, আমি তাকে প্রার্থীত বস্তু দিতে পারি? এরূপ নাই কি? এরূপ নাইকি বলা হতে থাকে যে পর্যন্ত না ফজরের উদয় হয়। (হাদিসে কুদসী পৃ: ১৩২) আল্লাহ ইবনে হাজার আসকালানী বলেন নবী (স.) বলেছেন, যে মুসলমান এ মাসে তিনটি রোজা রাখবে এবং ইফতারের সময় তিনবার দরুদ পড়বে তার গুনাহ ক্ষমা করা হবে, তার রিযিকে বরকত হবে। কিয়ামতের দিবসে উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। হাদিসে আরও বর্ণিত আছে, রসূল (স.) রমজানুল মোবারক ছারা অন্য মাসে এতো অধিক রোজা রাখতেন না যতখানি সাবান মাসে রাখতেন বোখারী মুসলিম)। ইমাম মহিউস সুন্নাহ বগভী (রহ.) বলেন নবী (স.) বলেছেন, শবে বরাতে গোটা বিশ্ববাসীর পূর্ণ এক বছরের লেনদেনের দত্তর ফেরেশতাদের নিকট সোপর্দ করা হয় এমন কি মানব জাতির বিবাহ শাদী তার ঘরে সন্তান সন্তুতির জন্ম মৃত্যুর সবকিছুর তালিকা ভূক্ত করা হয়। উপরোক্ত বিষয়ের মর্ম অর্থ অনুধাবন করলে প্রতিয়মান হয় যে, লাইলাতুল বরাত হচ্ছে প্রার্থনা কবুলের উপযুক্ত সময়, এখন জ্ঞানী পাঠক সমাজ প্রশ্ন করতে পারেন যে শুধু এই রাতের প্রার্থনা যদি কবুল হয় তাহলে অন্য রাতে প্রার্থনার প্রয়োজন আছে কি? এর জবাবে আমরা বলতে চাই, প্রতিটি রাতই ফজিলতপূর্ণ, তবে গুরুত্ব ও মর্যাদার দিক দিয়ে কিছু না কিছু পার্থক্য অবশ্যই আছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয, বিশ্বের প্রতিটি মসজিদ আল্লাহর ঘর হলেও “কাবা” শরিফের আলাদা একটি মর্যাদা রয়েছে তেমনী ভাবে, বারটি মাসের মধ্যে রমজানের ব্যতিক্রম ধর্মী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে “হযরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, এক রাত্রে আমি নবীজীকে তার স্থানে না পেয়ে তাকে খুজতে বের হলাম। খুজতে খুজতে নবী (স.) কে জান্নাতুল বাকী নামক স্থানে গিয়ে দেখি, তিনি আকাশ পানে মাথা উত্তোলন করে দুআ করছেন। রসূল তখন আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়শা আমার নিকট হযরত জিব্রাইল (আ.) এসেছিলেন, তিনি আমাকে বললেন আজ মধ্য শাবানের (শব-ই-বরাত) রজনী। এ রাতে মহান আল্লাহর এত অধিক পরিমাণ লোকদের কে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন যে কালব গোত্রের বকরীগুলোর যত পশম রয়েছে তার সমপরিমাণ। কিন্তু তা সত্ত্বেও এমন কিছু দুর্ভাগ্য ব্যক্তি বা লোক রয়েছে যারা এই পবিত্র রজনীতেও ক্ষমা লাভে বঞ্চিত হবে। আর তারা হলো— (১) আল্লাহর সাথে শরিক স্থাপনকারী (২) হিংসা-বিদ্বেষী পোষণকারী (৩) অন্যায়ভাবে ট্যাক্স (চাঁদা) আদায়কারী (৪) পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান (৫) অহংকারী (৬) যাদুকর ও গণক (মিশকাত ১:১১৫) অন্যত্র মদ, জুয়া বেভিচারী ও খুনীদের কথাও বলা হয়েছৈ। এদেরকে কোন অবস্থায় ক্ষমা করা হবে না।