শাবান মাসের ফজিলত

আদম সন্তান দুনিয়াকে জাপটে ধরার জন্য প্রতি নিয়তঃ কত সব চিন্তা-ফিকিরে বিভোর থাকে। এ জন্য পাপকে তারা আজ পাপই জ্ঞান করছেনা বরং বৈধ মনে করে অনেক অন্যায় কর্মকে সানন্দে করে যাচ্ছে। বছরপূর্তি সমস্ত কর্মের ফিরিস্তি শা’বানে মহান আল্লাহর নিকট পেশ করা হয় তাই পাপকর্মের জন্য তাওবাতুন নাসূহা বা একনিষ্ঠভাবে ক্ষমা চেয়ে (আমলে ছালেহ) নেক আমল করার সাধ্যমত আগ্রহসহ জান্নাতুল ফেরদাউস প্রাপ্তির আশা নিয়ে সত্কর্মে নিজেকে আঁঁটকে রাখা। এ হিসেবে শা’বান মাসকে পেয়ে তওবা এস্তেগফার করে আমলনামা বিশ্বনিয়ন্তার সামনে উপস্থাপন করা হয় মর্মে দৃঢ় ঈমান রেখে বেশি বেশি নেক আমল করা উচিত। আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (স.) শা’বান মাসে সাধ্যমত ফজিলতপূর্ণ ইবাদাত করতেন যেমন-তিনি এ মাসের অধিকাংশ দিন সিয়াম বা রোযা পালন করতেন আর আশা করতেন, আমার আমলনামা মহান প্রভূর কাছে পেশকরা হবে আর আমি তখন সিয়াম বা রোযা অবস্থায় থাকা পছন্দ করি। আল্লাহর রসূল (স.) শা’বান মাসের অধিকাংশ দিনগুলিতে রোযা রাখতেন। মা আয়শা (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রসূল (স.)-কে রমযান ছাড়া অন্য কোন মাস সম্পূর্ণ রোযা রাখতে দেখিনি। আর শা’বান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসের অধিকাংশ দিনগুলিতে তাঁকে রোযা রাখতে দেখিনি (বুখারী ১৯৬৯ ও মুসলিম ১১৫৬নং হা.)। তিনি আরো বলেন, আল্লাহর রসূল (স.)-এর নিকট রোযা রাখার জন্য পছন্দনীয় মাস ছিল শা’বান। তিনি সে মাসের রোযাকে (শেষ ২/১ দিন ব্যতীত) রমযানের সাথে মিলিত করতেন (ছহীহ আবূদাউদ-হা.২১২৪)। হযরত উসামাহ বিন যায়দ (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে শা’বান মাসে যত সিয়াম (রোযা) রাখতে দেখি তত অন্য কোন মাসে তো রাখতে দেখিনা, (এর রহস্য কি)? উত্তরের তিনি বললনে, “এটা তো সেই মাস, যে মাস সম্বন্ধে মানুষ উদাসীন, যা হল রজব ও রমযানের মাঝে। আর এটা তো সেই মাস; যাতে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের নিকট আমলসমূূূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার সিয়াম (রোযা) রাখা অবস্থায় আমার আমল (আল্লাহর নিকট) পেশ করা হোক (নাসাঈ, সহীহ তারগীব ১০০৮নং)। এখানে আমরা হাদীস থেকে নফল সিয়াম পালনের বিষয়টি স্পস্ট পেলাম আর নফল সিয়ামের ফজিলত সম্পর্কে যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা হল ১দিনের রোযার কারণে জাহান্নামকে ৭০বছরের পথ দূরে সরিয়ে রাখবেন। সিয়াম কেয়ামের ময়দানে শাফা‘আত করবে, জাহান্নামের আগুন থেকে ঢাল হবে ইত্যাদি। মোদ্দাকথা সিয়াম আল্লাহর সন্তষ্টিও উদ্দেশ্যে হলে ও রসূলুল্লাহর তরীকায় হলে সায়েমকে জান্নাতে দেয়া হবে জাহান্নাম থেকে মূক্ত রাখা হবে।