বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে এনেছে বিশ্বব্যাংক। গত জানুয়ারি মাসে সংস্থাটি উল্লেখ করেছিলো, চলতি বছরে বিশ্ব প্রবৃদ্ধির গড় হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রতিবেদনে’ এ লক্ষ্য পরিবর্তন করে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম উল্লেখ করেছেন, ‘কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দরিদ্র ৪০ শতাংশ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য যে প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন ছিলো তা থেকে উন্নয়নশীল বিশ্ব অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এক প্রজন্মের মধ্যে চরম দারিদ্র্য হটাতে ব্যাপক ভিত্তিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে দেশগুলোকে আরো দ্রুত এগুতে হবে এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তনের জন্য আরো বিনিয়োগ করতে হবে’। যুক্তরাষ্ট্রের খারাপ আবহাওয়া, ইউক্রেনের সংকট, চীনা অর্থনীতির পুনর্গঠন, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক কাঠামোগত পরিবর্তনে ধীরগতি এবং অনেক দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমে আসার কারণে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৫ ও ২০১৬ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৪ ও সাড়ে ৫ শতাংশ হারে বাড়বে বলে আশা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক যেমন রপ্তানি, রেমিটেন্স, মূল্যস্ফীতির সূচকে নিম্নগতির পেছনে জানুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টি প্রধান বাধা আকারে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১০ থেকে ২০১৩ মেয়াদে গড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ যা ২০১৪ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে (পূর্বে হিসাবকৃত) নেমে আসতে পারে। এর মূল কারণ হলো জানুয়ারি মাসে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা। স্থায়ী মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে, তবে কৃষি উত্পাদন ও রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি কিছুটা হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার চাপ মিটিয়েছে। অন্যদিকে শ্রীলংকার বার্ষিক প্রবৃদ্ধির ৬.৩ থেকে এক বছরের ব্যবধানে ২০১৩ সালে ৭ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এর মূল কারণ হলো শ্রীলংকায় সেবা, শিল্প উত্পাদন বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি। দক্ষিণ এশিয়ার রপ্তানির গতি বিষয়ে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী চাহিদা বৃদ্ধির ফলে চলতি বছরে ভারতের রপ্তানিতে গতি সঞ্চার হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে দক্ষিণ এশিয়ার রপ্তানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপের বাজারে অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা বা জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ায় পাকিস্তানের রপ্তানি সম্ভাবনা আগের চেয়ে বেড়েছে কিন্তু জ্বালানি সংকট তাদের বাধাগ্রস্ত করতে পারে। অন্যদিকে রাজনৈতিক সংকট কেটে যাওয়া, তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশের উন্নতি করার পর বাংলাদেশের রপ্তানির সম্ভাবনা আগের চেয়ে বেড়েছে কিন্তু উত্পাদনশীলতা না বাড়লেও এ খাতে মজুরি বৃদ্ধির চাপ বিশ্ববাজারে আরো প্রতিযোগিতায় ফেলবে বাংলাদেশকে। চলতি বছর চীনে ৭.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে কিন্তু এটি নির্ভর করে তাদের নেয়া আর্থিক ভারসাম্যমূলক পদক্ষেপের উপর। অন্যদিকে দু’বছর ৫ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধির পর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার বড় অর্থনীতির দেশ ভারতে বিনিয়োগ ও রপ্তানি গতির উপর ভর করে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে সাড়ে ৫ শতাংশে। মধ্যমেয়াদে পাকিস্তান ও নেপালের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ৪ শতাংশে। বাংলাদেশের যে সম্ভাবনা রয়েছে তাতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্র্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ শতাংশের মতো। শ্রীলংকার হতে পারে ৭.২ শতাংশের মতো। তবে অন্যান্য ঝুঁকির সাথে সাথে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে এদেশের মোট খেলাপী ঋণের বড় অংশ রয়েছে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলোতে। যার পরিমাণ মোট ব্যাংকিং খাতের এক-তৃতীয়াংশ সম্পদের সমান।