ভূমধ্যসাগরে নৌবাহিনী সদস্যদের ত্রাণ তত্পরতা
আবুল খায়ের, বৈরুত (লেবানন) থেকে
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৪, ২৩:০০
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ লেবানন সীমান্তে ভূমধ্য সাগরে অস্ত্র চোরাচালান রোধে সফল হয়েছে। শুধু অস্ত্র নয়, অবৈধ সব চোরাচালান রোধেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে নৌবাহিনীর সদস্যরা। ইসরাইলের আগ্রাসন থেকে লেবাননকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের (লেবানন) ফোর্স কমান্ডার মেজর জেনারেল পাউলো ছেড়া এমন মন্তব্য করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে এ প্রতিবেদকসহ বাংলাদেশ থেকে লেবানন যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন।
এদিকে লেবাননে বর্তমানে এক লাখ ১৫ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। এসব শ্রমিক বছরে ৬৫ হাজার মিলিয়ন ডলার দেশে পাঠাচ্ছেন। শ্রমিকদের মধ্যে নারীই বেশি। তারা বাসা-বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। দালালের মাধ্যমে লেবানন এসে তাদের অনেকেই বিপদে পড়েন। এরকম বিপদে পড়া নারী শ্রমিকদের জন্য ক্যাম্প রয়েছে। শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়া নৌবাহিনীর সদস্যরা এসব বিপদে পড়া নারীদের নানা ধরনের সহযোগিতা করে থাকেন।
লেবানন সফররত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী প্রধান এ এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী গতকাল ইউনিফিলের (লেবানন) ফোর্স কমান্ডার মেজর জেনারেল পাউলো ছেড়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় পাউলো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যদের ভূয়সী প্রসংশা করেন। তিন বলেন, বাংলাদেশের দু’টি যুদ্ধ জাহাজ ‘ওসমান’ ও ‘মধুমতি’ দীর্ঘ চার বছর ধরে সাগরে খুবই দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে। এ দু’টি জাহাজ ফিরে আসছে। তাদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে ‘আলি হায়দার’ ও ‘নির্মল’ নামের অপর দু’টি যুদ্ধ জাহাজ। ইতিমধ্যে লেবাননের উদ্দেশ্যে এই জাহাজ দু’টি চট্টগ্রাম ছেড়ে গেছে। এরা পৌঁছলেই ওই জাহাজ দু’টি দেশে ফিরে আসবে।
জাতিসংঘের অধীনে কাজ করে একমাত্র মেরিটাইম টাস্কফোর্স ইউনিফিল। ব্রাজিল, জার্মান, ইতালি, গ্রিস, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ এই টাস্কফোর্সে রয়েছে। এই মেরিটাইম টাস্কফোর্সের প্রধান কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল ওয়াল্টার এডওয়ার্ড বামবাডর গতকাল লেবানন সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিক দলের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধে কাজ করা বাংলাদেশের নৌবাহিনী সদস্যদের ভূয়সী প্রসংশা করেন। তিনি বলেন, গত তিন বছরে এই ৭টি দেশের ১২ জন সদস্য শান্তিরক্ষায় কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত এ এফ এম গাউসুল আযম সরকার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, গত ৬ মাস আগে তিনি এই মিশনে এসেছেন। লেবাননে শ্রমিকদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ নারী শ্রমিককে মাসে দু’শ’ ডলার বেতন দেয়ার কথা বলে দালালরা এখানে নিয়ে আসে। পরে দেখা যায় তারা একশ’ ডলার বেতন পান। আবার কোন কাজ না জানা নারী শ্রমিকদের এখানে আনা হয়। কিন্তু তারা কাজ না জানার কারণে বেকার হয়ে পড়েন। এসব নারী শ্রমিকের জন্য দূতাবাস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, লেবাননে সরকারি উদ্যোগেই নারী শ্রমিকদের যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু তারপরও তারা দালালদের খপ্পরে পড়েন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে লেবাননে ওষুধ রফতানির ব্যাপারেও চেষ্টা চলছে।