ব্রাজিলে হলুদের উচ্ছ্বাস
সোহেল সারওয়ার চঞ্চল, সাও পাওলো, ব্রাজিল থেকে
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৪, ২৩:০৮
ব্রাজিলের সাও পাওলোতে পৌঁছে প্রথম দিন এটিকে বিশ্বকাপের শহর মনে হয়নি; কিন্তু উদ্বোধনী ম্যাচের আগের দিন সাও পাওলো যেন পুরোই বদলে গেছে। ফুটবল উত্সবের আমেজ শুরু হয়েছে। সাও পাওলোর অধিবাসীর মধ্যে ফুটবলের দারুণ উত্সব শুরু হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন ফুটবল দর্শকরা। ধর্ম-বর্ণের কারো মধ্যে নেই ভেদাভেদ। সবাই যেন এক স্রোতে ভাসছে। সাও পাওলোর দেয়ালে দেয়ালে ব্রাজিলের রং। খেলোয়াড়দের ছবি। সবার গায়ে ব্রাজিলের পতাকার হলুদ রংয়ে ছেয়ে গেছে। হাতে হাতে হলুদ। মোবাইল ফোনের কাভার হলদু। গায়ে জার্সি হলুদ। জার্সি যার গায়ে নেই তার অন্য কাপড়টিও হলুদ। প্যান্ট-জুতা সবই হলুদ। শপিংমলে এমন কোনো কাপড় নেই যেখানে হলুদ রংয়ের ছোঁয়া পাওয়া যায় না। শরীরে হলুদ রংয়ের কাপড় এবং মাথায় পতাকা জড়িয়ে, শিং লাগিয়ে আনন্দ করছে। বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে কেউ নিজের গাড়ির রং বদলে হলুদ রং করিয়েছেন। গাড়ির গায়ে নেইমারদের ছবি এঁকেছেন। নিজে ব্রাজিলের জার্সি গায়ে গাড়ি চলাচ্ছেন। স্টেডিয়ামমুখী মানুষের মধ্যে আনন্দটা যেন সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছিল। যে আন্দোলন চলছিল তা যেন সব কিছুকে ছাপিয়ে গেছে খেলার কারণে। যার হাতে টিকিট নেই তিনিও স্টেডিয়াম এলাকায় গিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তোয়ালে দিয়ে পেঁচিয়ে কোলের শিশুকে নিয়ে মা গেছেন স্টেডিয়াম এলাকায়।
আরিনা কোরিয়ান্থান্স স্টেডিয়ামের পাশে ইতাকুয়েরা স্টেশন। এখন ইতাকুয়েরা মুখী যাত্রী সবচেয়ে বেশি। প্রতি তিন মিনিট পর পর ট্রেন। আছে সাবওয়ে, যাত্রী বোঝাই হয়ে আসছে। নামিয়ে দিয়েই আবার যাত্রী আনতে ছুটছে। আধুনিক এই ট্রেন স্টেশনের দেয়ালে দেয়ালে বিশ্বকাপের ছবি। খেলোয়াড়দের ছবি। জায়গা জুড়ে রাখা হয়েছে বিশাল আকৃতির বিশ্বকাপের বাজুকা ফুটবল। ফুটবল স্থাপনের সাথে সাথে সবাই ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। বিশ্বকাপের স্মৃতি ধরে রাখতে মোবাইলে ছবি তুলছেন ছোট-বুড়ো সবাই। ট্রেন স্টেশন থেকে একটা ফুটওভার ব্রিজ সোজা চলে গেছে স্টেডিয়ামের বুকে। এই পুরো পথটা যেন পয়লা বৈশাখের রমনা পার্কের গেট। নানা জাতির মানুষের ভিড়। নানা সাজে সজ্জিত। ক্রোয়েশিয়ার সমর্থক আর ব্রাজিলের সমর্থক এক হয়ে গিয়েছিল। সং সেজে ঢং করে নিজেদের উপস্থাপন করছেন ফুটবল দর্শকরা। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সংবাদ কর্মীরা তাদের ইন্টারভিউ নিতে ব্যস্ত। স্টেডিয়ামের কাছে নানা রকম হকার। বাঁশি, কফি, শূকরের পোড়া মাংস, বিশ্বকাপের ব্রাজিলের জার্সি, খেলনা বিক্রি করেন তারা। দাম প্রচুর। ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকা দামের জার্সি। ঢোল বাজছে কান ফাটা শব্দে গাড়িতে গান বাজছে। হাতে হাতে রঙিন পানিতে একবার চুমুক দেয়াটা যেন একটা সাধারণ ব্যাপার। স্টেডিয়ামের সামনে হাজার মানুষের ভিড়ের ফাঁকে ফাঁকে চলছে প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা আদান-প্রদান। ওদের সমাজে লোকচক্ষুর আড়াল হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ব্রাজিলে এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার। স্টেডিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে পরস্পরকে আলিঙ্গন করাটাও তাদের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবলের স্মৃতি ধরে রাখার দারুণ সুযোগ। সেখানেও লিপিস্টিকের রং হলুদ। ওদের মতো ব্রাজিলে সবার হাতই হলুদে হলুদ, হাতে হাতে হলুদের রং। উেবর আনন্দে সামান্য ভুল বুঝাবুঝিতে হলুদ যেন লাল রংয়ে পরিণত না হয় সে জন্য রয়েছে পুলিশের কড়া নজরদারি। আর স্টেডিয়ামের আকাশে তো ২৪ ঘণ্টা হেলিকপ্টার পাহারা আছেই।