ঢাকার আম লিচুতে ভয়াবহ ফরমালিন

রাজধানী ঢাকার আম, জাম, লিচুসহ মৌসুমী ফলে মিলেছে ভয়ঙ্কর মাত্রার ফরমালিন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন মানুষের দেহে ১ দশমিক ৫ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) মাত্রার ফরমালিন সহনীয়। কিন্তু চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করা মৌসুমী ফল পরীক্ষা করে দেখা গেছে ১২৫ পিপিএম মাত্রার ফরমালিন যা মানবদেহের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এবিএম আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘১২৫ পিপিএম মাত্রার ফরমালিন মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে লিভার নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকলাঙ্গ হয়ে যেতে পারে। প্যারালাইসিসসহ নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা বেশি। সবচেয়ে বড় কথা একজন মানুষ এই ফরমালিনের প্রভাবে যেকোন সময় স্টোক করে মারা যেতে পারেন।’ বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাজধানীতে প্রবেশ করা সব ফলের ট্রাকে তল্লাশি চালাচ্ছে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ। এরজন্য চেকপোস্টের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ফরমালিন পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞও রাখা হয়েছে। প্রথম রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশ। সেখানে পুলিশের মুখপাত্র যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাত আটটা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত মোট ২০৮টি ফলবাহী ট্রাক রাজধানীতে প্রবেশ করেছে। মনিরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীতে প্রবেশ করা এসব ট্রাকে আম, জাম, লিচু, খেঁজুর, কলা, তাল, আনারস, লটকন, আপেল ও মাল্টা ছিল। তিনি বলেন, পুলিশ বিশেষ করে আম, জাম ও লিচুতে পরীক্ষা চালায়। এসব পরীক্ষায় মানবদেহের জন্য ভয়ঙ্কর মাত্রায় ফরমালিনের ব্যবহার পাওয়া যায়। আমে পাওয়া গেছে ২ দশমিক ৪৮ থেকে ১২৫ পিপিএম মাত্রায় ফরমালিন। লিচুতে ১ দশমিক ৪৯ থেকে ৩১ পিপিএম মাত্রা পর্যন্ত ফরমালিন পাওয়া গেছে। আর জামে পাওয়া গেছে ৩৩ থেকে ৩৫ পিপিএম। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই মাত্রা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, চেকপোস্টগুলোতে অভিযানে ফরমালিনযুক্ত তিন হাজার মণ আম, ২শ’ মণ জাম ও আনুমানিক ১৫ লাখ লিচু জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। এজন্য দুইজনের ছয় মাস ও একজনের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ১২ জনের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাসুদুর রহমান বলেন, ফল ব্যবসায়ীরা পুলিশের এই অভিযানের কারণে কৌশল বদলে ফেলেছে। তারা দিনের বেলায় ঢাকার আশপাশে ফল এনে রাখছেন। এরপর বাস ও বাসের ছাদে করে এগুলো রাজধানীতে প্রবেশ করাচ্ছে। এগুলো রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। চেকপোস্ট ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ফরমালিন বিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে এ বিষয়ে গোয়েন্দা তত্পরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেখানে ফরমালিন বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই অভিযান চালানো হচ্ছে। মৌসুমী ফলের এই সময়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মনিরুল ইসলাম বলেন, ফরমালিন আমদানিকারকদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। দেশে ফরমালিনের চাহিদা ৪০ টন। এর বাইরে বেশি পরিমাণে ফরমালিন আমদানি করা হচ্ছে। আমদানিকারকদের গুদামেও অভিযান চালানো হবে।