সাগরে ট্রলারে গুলির ঘটনায় ৩ বিদেশি আটক
কক্সবাজার প্রতিনিধি ও টেকনাফ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৪, ২৩:১৫
বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে গুলি করে ৫ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় ৩ বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে কোস্টগার্ড। এর মধ্যে থাইল্যান্ডের দুই নাগরিক ও মিয়ানমারের এক নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের আসামি করে থানায় মামলা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঐ ঘটনায় নিহতদের মরদেহ ও উদ্ধার পাওয়া ৬৮ জনকে বুধবার গভীর রাতে টেকনাফে আনা হয়। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আহত ২৯ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা টেকনাফ থানা হেফাজতে রয়েছেন।
কোস্টগার্ডের টেকনাফ স্টেশন অফিসার লে. হারুনুর রশীদ জানান, বুধবারের গুলিবর্ষণে হতাহত হওয়ার ঘটনায় থাইল্যান্ডের নাগরিক ম্যাং ও মাই এবং মিয়ানমার নাগরিক আবদুল গফুরকে আটক দেখানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। টেকনাফ থানার ওসি মোক্তার হোসেন এ ঘটনায় কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।
অন্যদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সোলতান আহমদ সিরাজী জানান, সেন্টমার্টিন থেকে উদ্ধার হওয়া লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে।
বুধবার সকালে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারে যাত্রীদের সাথে আদম পাচারকারী দালালদের তীব্র তর্কাতর্কির জের ধরে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে মালয়েশিয়াগামী ৫ যুবক নিহত এবং আরো ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে ৫টি লাশসহ ৩১২ জন মালয়েশিয়াগামীকে জীবিত উদ্ধার করে সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিনে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে ৬৮ জনকে টেকনাফে আনা হয়। বাকি যাত্রীদেরও টেকনাফে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড। নিহতরা হলেন— যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রশিদের ছেলে মো. সেলিম ও একই এলাকার মোকামের ছেলে রুবেল, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের সালাহউদ্দিনের ছেলে এবাদুল, বগুড়ার কাহালু উপজেলার সাইফুল ও সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার মনির।